ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদকে ফের রাজ্যসভার প্রার্থী করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন তীব্র বিতর্ক চলছে, সেই আবহেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি কোনও নেতার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং দেশের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে দায়িত্ব দেয়।
দিলীপ ঘোষের কথায়, রাজ্যসভা এমন একটি কক্ষ যেখানে অভিজ্ঞ ও সংসদীয় কাজের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রয়োজন হয়। তাই যাঁরা দীর্ঘদিন সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের সুযোগ দেওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর দাবি, কোনও ব্যক্তি যদি বিজেপির আদর্শে আস্থা রেখে দলে যোগ দেন, তবে তাঁকে তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতে অস্বাভাবিক বা বিতর্কের কিছু নেই।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁদের তিনজনকেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধীদের অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে এতদিন বিজেপি রাজনৈতিক লড়াই করেছে, তাঁদেরই এখন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থানকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের উদাহরণ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে। এই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোনও ব্যক্তি যদি নিজের পুরনো দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস রেখে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তাঁকে সম্মান দেওয়া এবং দায়িত্ব দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাঁর মতে, একজন নেতার অতীতের চেয়ে বর্তমান অবস্থান এবং দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বিজেপি একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলে স্বাগত জানানো হয়। তাঁদের অভিজ্ঞতা সংসদের উচ্চকক্ষে দলের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।