নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব মেদিনীপুর; সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এবার তৃণমূল নেতার স্কুলের ছাদ যেন অসামাজিক কাজের আখড়া! সেখান থেকেই উদ্ধার হলো সরকারি ত্রিপল, মহিলাদের শাড়ি, ব্লাউজ এবং প্রচুর পরিমানে কন্ডোম-সহ একাধিক আপত্তিকর নথিপত্র। তৃণমূল নেতার এই চরম কুকীর্তি ফাঁস হতেই বৃহস্পতিবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরের উত্তর কাঁথি বিধানসভার ও এগরা ২ নম্বর ব্লকের বাথুয়াড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযুক্ত নেতার বাড়ি ও স্কুল ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজিত শী বাথুয়াড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও এগরা -২ ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক এবং এলাকায় তৃণমূলের “দাপুটে নেতা” হিসেবেই পরিচিত। এলাকায় তাঁর কথাই ছিল শেষ কথা। তাঁর মালিকানাধীন একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ থেকেই এদিন দুপুরে এই সমস্ত আপত্তিকর জিনিসপত্র উদ্ধার হয়।
এদিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আচমকাই ওই বেসরকারি স্কুলের ছাদে চড়াও হন। সেখানে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে তাঁদের। দেখা যায়, ছাদের একটি অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মহিলাদের শাড়ি, ব্লাউজ, প্রচুর ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত কন্ডোম এবং রাজ্য সরকারের ত্রাণ সামগ্রীর বিপুল পরিমাণ ত্রিপল। এছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও সেখান থেকে উদ্ধার হয়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের পঠনপাঠনের আড়ালে ছাদের ওপর এই ধরণের নোংরা ও অসামাজিক কাজকর্ম চালাচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। এই ঘটনা জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উত্তেজিত জনতা একজোট হয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সুজিত শীর বাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন অভিযুক্ত উপ-প্রধান। বর্তমানে তিনি পলাতক।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এগরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও এগরা-২ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্কুলের ছাদ থেকে সমস্ত আপত্তিকর সামগ্রী ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক তৃণমূল নেতার খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের। তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে স্থানীয় এলাকায়।