ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, জমি দখল, বেআইনি ব্যবসা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে নতুন আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। সরকারের দাবি, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমন, অপরাধচক্রের আর্থিক ভিত ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সরকারের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেটচক্র, বেআইনি জমি দখল, অবৈধ বালি ও পাথর খাদান, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান আইনে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা নয়, বরং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা। তাঁর মতে, জনগণের অর্থ বা সম্পদ লুট করে যারা নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তাদের সেই অবৈধ সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অপরাধ করে অর্জিত সম্পদের উপর কঠোর আঘাত হানলেই সংগঠিত অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। প্রস্তাবিত বিলে ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’ এবং ‘গুন্ডা’ শব্দের পৃথক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি এককভাবে বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট কিংবা সংগঠিত অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে ধারাবাহিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে। অস্ত্র আইন, মাদক পাচার, বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ, মানবপাচার, সংগঠিত অপরাধ, চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়াও সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, জোরপূর্বক জমি বা সম্পত্তি দখল, প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ উত্তোলন, বন ও পরিবেশের ক্ষতি এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে আর্থিক লাভের মতো ঘটনাগুলিকেও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই আইন কার্যকর হলে অপরাধ সংঘটনের পর শুধু ব্যবস্থা নেওয়া নয়, অপরাধের সম্ভাবনাও আগাম রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।
খসড়া বিলে অপরাধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা ধার্য করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়।