ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ বছর ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবারের বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাজেট বক্তৃতা এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে ডিএ-র ব্যবধান ক্রমশ বেড়েছে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন করেছেন। আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেটানোর বদলে আগের সরকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই ক্ষমতায় আসার পর কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে লক্ষাধিক কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।
শুধু ডিএ নয়, শিল্প নিয়েও আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জমি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বহু বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গে আসতে আগ্রহ হারিয়েছিলেন। একাধিক শিল্পপ্রকল্প অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে শিল্প-বান্ধব একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। শিল্প স্থাপনের জন্য চালু করা হবে ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থা। এর ফলে শিল্পপতিদের আর বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরে অনুমোদন নিতে হবে না। একক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অনুমতি পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের আশা, এতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে এবং নতুন শিল্প স্থাপনে সময় অনেকটাই কমে আসবে।
জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতেও বড় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নগরাঞ্চলে বৃহৎ শিল্প ও আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে থাকা বিভিন্ন আইন ও বিধিনিষেধ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষ করে আরবান ল্যান্ড সিলিং আইন নিয়ে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। নতুন সরকার সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা রয়েছে বাজেটে। এক লক্ষ নতুন সরকারি চাকরি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে শূন্যপদ পূরণ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো খাতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই বাজেট শুধুমাত্র আর্থিক হিসাবের খাতা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি রোডম্যাপ। কর্মচারীদের জন্য ডিএ বৃদ্ধি, শিল্পে বিনিয়োগ টানতে প্রশাসনিক সংস্কার, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।