ওঙ্কার ডেস্ক: বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ২০ আগস্ট ডিভিশনাল কমিশনার তথা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইস্তফা কার্যকর হয়েছে।
কাজল শেখ কেন হঠাৎ পদ ছাড়লেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই জেলা পরিষদের কাজে তাঁর উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। এর ফলে একাধিক স্থায়ী সমিতির বৈঠক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। জেলা পরিষদের কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যেই কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ে। জেলা পরিষদের মোট ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জন সেই প্রস্তাবে সই করেন। এই ১৯ জনের অধিকাংশই অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই কাজলের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়ে।
শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হয়। ১৯ আগস্ট কাজল শেখ পদত্যাগের চিঠি জমা দেন। এরপর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ইস্তফার কারণ জানাতে বলা হয়। ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হন।
শুনানিতে কাজল শেখ জানান, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদ ছাড়ছেন। তিনি স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান। কোনও ধরনের চাপ বা জবরদস্তি ছিল না বলেও দাবি করেন কাজল। তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েই প্রশাসনিক আধিকারিক ইস্তফাপত্র গ্রহণ করে। প্রশাসনের তরফে নির্দেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১৪৪(৪) ধারা অনুযায়ী তাঁর পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।