নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: শেখ হাসিনা দেশে ফিরুক! জামাতিদের ধর্মন্ধতার রাজনিতি দূরে হাটুক,এতে নারি স্বাধিনতায় এবং প্রগতির বাধা হয়ে উঠছে। নিজের বাংলাদেশে ফেরা অনিশ্চিত। তাই কবে দেশে ফিরবেন তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ নির্বাসনের পরে, ভালোবাসার শহরে ওপার বাংলার লেখিকা তসলিমা, পানিহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে এসে, বেগম রোকেয়ার সমাধিতে মাল্যদান লেখিকার, পাশাপাশি বেশ খানিকটা সময় কাটালেন পানিহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাভ থেকে শুরু করে পড়ুবাদের সাথে। যে ভালোবাসা একসময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তসলিমার থেকে, সেই ভালোবাসার শহর ফের বরণ করে নিলেন প্রিয় লেখিকাকে। ১৯৩২সালের ৯ই ডিসেম্বর, কলকাতার পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা সোদপুরের, এই মাটিতেই সমাধিস্থ হয়েছিলেন, ওপার বাংলার শিক্ষানবিশ নারী শিক্ষার অগ্রদূত, মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, তারপর থেকে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর পার হয়ে গিয়েছে, অবশেষে নির্বাসন কাটিয়ে সেই বেগম রোকেয়ার সমাধি তো স্মৃতিতে মাল্যদান করলেন প্রিয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন, পাশাপাশি তুলে ধরলেন বেগম রোকেয়ার বিভিন্ন স্মৃতির কথা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মাথায় মৃত্যুদণ্ডের সেই খাঁড়া নিয়েই ৭৮ বছর বয়সি আওয়ামী লীগ নেত্রী দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখছেন। তবে বাংলাদেশে ঢুকলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। জেলে পাঠানো হতে পারে। এমনকি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও করা হতে পারে। সেই সমস্ত সম্ভাবনা মেনে নিয়েই ফিরবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। হাসিনা ইমেলের প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন, ‘‘আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে। গ্রেফতার করা হতে পারে। জেলেও পাঠানো হতে পারে। নিজের পরিণতি সম্পর্কে আমি সচেতন। তবু আমি ফিরতে চাই। কারণ, আমার লোকজন আমাকে ডাকছে।’’ এর আগে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকেও অনুরূপ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন হাসিনা। সেখানেই প্রথম জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে চান। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের যে সমস্ত নেতা-মন্ত্রী দেশছাড়া হয়েছিলেন, সকলকে নিয়েই প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করেছেন হাসিনা। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমার দলের নেতা-কর্মীদের উপর প্রবল অত্যাচার চলছে। তাঁদের দমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মাকে কবর দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।’’ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা না-হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর বা জানুয়ারি নয়, যত শীঘ্র সম্ভব হাসিনা দেশে ফিরুন, চায় বাংলাদেশ। তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচারের সম্মুখীন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
২০২৪ সালে গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন হাসিনা। পদত্যাগ করে তিনি পালিয়ে এসেছিলেন ভারতে। সেই থেকে ভারতেই আছেন তিনি। তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে একাধিক বার নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনের পর বাংলাদেশে আপাতত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতাসীন। হাসিনা সত্যিই ফেরেন কি না, ফিরলে তারেক রহমানেরা কী পদক্ষেপ করেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।