শুক্লা মাইতি : তামান্না খুনের ঘটনায় পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের। তামান্না খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২ জন । ধৃতদের নাম সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দেখা করেন মৃত তামান্নার মা । সাথে ছিলেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি এবং ডোমকলের বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করে নিজেরদের কথা জানালে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতই এই পদক্ষেপ। মঙ্গলবার রাতে নদিয়ার কালীগঞ্জ থানার পুলিশ সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে নদীয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবার পর তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমায় নিহত হয় শিশু তামান্না। সেই সময় মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। তার মধ্যে ১১ জনকে আটক করা হলেও অধরা ছিলেন মোট ১৩ জন।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বেরিয়ে তামান্নার মা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আর্জি ছিল আমার মেয়ের খুনিদের শাস্তি এবং ন্যায় বিচার। উনি আমায় ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি বুকে ভরসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
মঙ্গলবার বিধানসভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে অভয়া কাণ্ড থেকে তামান্না কাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গ। যেমন কথা তেমন কাজ। মঙ্গলে বিকালে হুঁশিয়ারি, রাতে গ্রেফতারি। আজ, বুধবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হয় ।
মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বেরিয়ে বাম নেত্রী মীনাক্ষি মুখার্জি বলেন, শুধুমাত্র তামান্না নয় ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের অত্যাচারে আনিস খান, মইদুল মিদ্দে, দেবু দাসের মতো যতো মানুষের প্রাণ গেছে, সেই সব অভিযোগ এবং ন্যায় বিচারের আর্জি তারা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে রেখেছেন । মীনাক্ষী এও জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানোর পর কাকদ্বীপে বাম নেতা দিপু দাসের খুনের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্বাভাবিকভাবেই বিজেপই সরকার, মুখ্যমন্ত্রী, এবং পুলিশ প্রশাসনের এহেন ভূমিকা এবং পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক বিবাদ ভুলে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাই যদি লক্ষ্য হয় তবে হয় তো সমাজের রূপরেখা সঠিক পথেই রুপায়িত হবে।