নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে নববর্ষ। কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কোথাও বা আবার মাতামাতি চলছে হালখাতা নিয়ে। তবে এই দিন প্রতিবছর উত্তর ২৪ পরগণার গোবরডাঙ্গায় পালিত হয় নতুনভাবে। জমিদার বাড়ি লাগোয়া মাঠে বসে এক অভিনব মেলা। মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসছে, মেলা তো মেলাই হয়, অভিনব ভাবে আবার কি মেলা হয়! এই মেলা হল মশলা মেলা। বিভিন্ন ধরনের রান্নার মশলাপাতি ও আনাজ সামগ্রী নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। আর সেখান থেকে অনেকেই বছরের মশলা কিনে রাখেন।
এই মশলা মেলা নিয়ে এক ইতিহাস রয়েছে। একদিনের এই মশলা মেলার উদ্বোধন হয়েছিল ১৮২৩ সালে। এবার এই মেলা ২০৪ বছরে পদার্পণ করল। তৎকালীন কুশদহ জেলার অধীন থাকা গোবরডাঙার জমিদারেরা প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা উপায়ের জন্য এটা চালু করেছিলেন। জমিতে চাষ করা বিভিন্ন মশলা কৃষকরা মজুদ করে রাখতেন আর প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে যমুনা থেকে নৌকায় করে এসে জমিদারদের বাড়ির সামনের মাঠে বসা মেলা থেকে এলাকার বাসিন্দারেরা এক বছরের মশলা একসঙ্গে কিনতেন। তাতে চাষীও লাভবান হত আর বাসিন্দারাও উপকৃত হতো। দিনের শেষে সেই মশলা বিক্রি করে ওখানে বসেই বছরের খাজনা মিটিয়ে বাড়ি ফিরতো কৃষকেরা। যদিও ভারত স্বাধীনের পর সেসব অতীত হয়ে গিয়েছে। তবে জমিদার কালীপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে হওয়া মশলা মেলা এখনো হয়। একইসঙ্গে পাশের মাঠে হয় গোষ্ঠ বিহার মেলা। মেলা এক সপ্তাহ ধরে হলেও মশলা মেলা শুধুমাত্র এক দিনই (পহেলা বৈশাখ) হয়। পরবর্তীতে অবশ্য শুধু মশলা নয় বিভিন্ন আনাজ সামগ্রী ও ডাল সামগ্রী মশলা মেলায় বিক্রি হয় ।