ওঙ্কার ডেস্ক: এবারের নির্বাচন, কমিশনের কাছে ছিল কার্যত এক চ্যালেঞ্জ-র মত। সেই মত নির্বাচনের পরে বঙ্গের সমস্ত জায়গায় মোতায়েন করা হচ্ছে পুলিশ বাহিনী। গত ১২ মে প্রকাশিত এই আদেশে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ে পুলিশ সুপারদের একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। থানার মালখানায় জমা থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আগামী ১৫ মে-র মধ্যে আইসি বা ওসিদের নিজে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা করতে হবে এবং রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে । এছাড়া ১৬ মে থেকে আগামী দুই সপ্তাহ ধরে রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার পুরনো মামলাগুলো নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন । যে মামলাগুলোতে ইতিমধ্যেই ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়ে গেছে, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে । তদন্তে কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে মামলা পুনরায় চালু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে । এছাড়া যে সব অভিযোগের ক্ষেত্রে আগে মামলা দায়ের হয়নি, প্রাথমিক তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিললে সেখানেও নতুন করে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই পুলিশ প্রশাসনকে ‘হাত খুলে কাজ করতে হবে’ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন তিনি। মূল লক্ষ্য যে সুশাসন, নবান্নে পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষস্তরের বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। সেইসঙ্গে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এডিজি রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেল পুলিশ সুপারদের পাঁচ দফার নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যেখানে ট্রাফিক আইন থেকে শুরু করে সীমান্ত সুরক্ষা – সব ক্ষেত্রেই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে।