ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নেতা প্রতীক উর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছেছে সিপিএম ও আইএসএফ। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং শুরু হয় জোরদার তরজা।
এক নির্বাচনী সভা থেকে প্রতীক উর রহমান দাবি করেন, প্রকাশ্যে বিজেপির বিরোধিতা করলেও আড়ালে বিজেপি ও আরএসএস-এর সঙ্গে সিপিএম এবং আইএসএফের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই সমঝোতা কেবল রাজনৈতিক নয়, এর সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনও জড়িত। তিনি বলেন, এই ধরনের ‘সেটিং’-এর মাধ্যমে নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই গোপন বোঝাপড়ার লক্ষ্য মূলত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বিভাজন তৈরি করা। তাদের দাবি, আইএসএফ নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে তাদের কার্যকলাপ বিজেপিকে পরোক্ষে শক্তিশালী করে তুলছে। প্রতীক উর রহমান সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, আইএসএফের নেতারা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কী ধরনের সমঝোতা করেছেন এবং তার বিনিময়ে কোনও আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না।
এই প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও সামনে আনা হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে কিছু নেতার আইএসএফে যোগদান, বিশেষ করে আরাবুল ইসলামের দলবদল, এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। শাসকদলের দাবি, এই সব পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলা। অন্যদিকে, এই অভিযোগ ঘিরে বিরোধী শিবিরে প্রতিক্রিয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দলগুলির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট জবাব এখনও সামনে আসেনি, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে এই ধরনের অভিযোগকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।
রাজ্যে নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া, আর সেই প্রেক্ষাপটে একে অপরকে আক্রমণ করার প্রবণতাও তীব্র হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।