ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে এসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। জনসভায় তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বেকারত্ব, অর্থনীতি, কর্পোরেট প্রভাব এবং রাজনৈতিক সমীকরণের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সভামঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি উদাসীন থেকে নির্দিষ্ট কিছু শিল্পগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। এই প্রসঙ্গে শিল্পপতি গৌতম আদানি-কে ঘিরে ওঠা বিতর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা কীভাবে এক শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তোলা উচিত।
একইসঙ্গে রাজ্যের শাসক দলকেও ছাড়েননি রাহুল গান্ধী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি এবং দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দাবি করলেও বাস্তবে তারা পরস্পরকে রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করছে।
এই সভায় প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়দর্শন দাসমুন্সির-র স্মৃতিচারণও করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দাসমুন্সির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং কংগ্রেস সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এগোতে চায়। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং উন্নয়নের রাজনীতি এই দুটিই কংগ্রেসের মূল শক্তি। সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচির আগে হেলিপ্যাড ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠায় কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নির্ধারিত সময়েই সভা অনুষ্ঠিত হয়।