নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ জমে উঠছে রাজনৈতিক লড়াই। সেই আবহেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নেমে জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিলেন রাজন্যা হালদার। সোনারপুরের বিপত্তারিণী মন্দিরে পুজো দিয়ে ধর্মীয় আবহে নিজের প্রচারের সূচনা করেন তিনি । পুজো দেওয়ার পর স্থানীয় মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে সরাসরি জনসংযোগে নেমে পড়েন তিনি।
প্রচারের শুরুতেই তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈত্রিক ভিটেতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি সোনারপুরের অন্যান্য কৃতি সন্তানদের প্রতিও সম্মান জানিয়ে নিজের প্রচারে আবেগঘন বার্তা তুলে ধরেন। প্রচারে বেরিয়ে বহু পুরনো তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গেও দেখা করছেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একসময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাজন্যা হালদার। একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের মঞ্চে বক্তব্য রেখে তিনি রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছিলেন। তবে আরজিকর ঘটনার পর একটি টেলিফিল্ম নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সেই ঘটনার জেরে দল তাকে সাসপেন্ড করে। এরপর বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় বিজেপিতে যোগদানের জল্পনাও তৈরি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনও দলেই তিনি যোগ দেননি এবং নির্দল প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজন্যা হালদারের প্রচারের মূল স্লোগান, “সোনারপুর তার ঘরের মেয়েকেই চায়।” এই বার্তাকেই সামনে রেখে তিনি এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছেন। তার দাবি, এই কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, এবং এলাকার সমস্যা ও চাহিদা তিনি খুব কাছ থেকে জানেন। তাই বাইরের প্রার্থীর বদলে একজন স্থানীয় মুখকেই মানুষ বেছে নেবেন বলে আত্মবিশ্বাসী রাজন্যা।
রাজন্যা হালদারের মতে, সোনারপুর একসময় তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে সেই হারানো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন।
এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের লাভলী মৈত্র এবং বিজেপির রূপা গাঙ্গুলী—দুজনেই পরিচিত মুখ এবং বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত। তবে রাজন্যার দাবি, এই দুই প্রার্থীই এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, যা তার প্রচারের বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, “ঘরের মেয়ে” ইস্যুকে সামনে রেখে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে এক অন্য মাত্রার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন রাজন্যা হালদার। এখন দেখার, ভোটের ফলাফল তার এই প্রচারের কতটা সাফল্য এনে দেয়।