ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কিছুটা শিথিলতা আনতে পারে এমন ইঙ্গিত মিলতেই এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ভারত, নতুন করে তেল কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহের চাপের মধ্যে ইরানের তেল আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরলে তা বহু দেশের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। ভারত, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ, অতীতে ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনত। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করায়, ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি আবারও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক স্তরে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।
শুধু ভারতই নয়, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মতো এশিয়ার অন্যান্য দেশও একইভাবে ইরানের তেলের দিকে নজর দিচ্ছে। কারণ, বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ইরানের মতো বড় উৎপাদক দেশের তেল বাজারে ফিরলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি শুরু করতে সক্ষম হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
অন্যদিকে, এই সম্ভাব্য পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করলে এশিয়ার দেশগুলির কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত জ্বালানি বাজারে নতুন আশা তৈরি করেছে। এখন দেখার, কূটনৈতিক আলোচনার পরবর্তী ধাপে পরিস্থিতি কতটা বাস্তব রূপ নেয় এবং ইরানের তেল আবার কত দ্রুত বিশ্ববাজারে ফিরে আসে।