ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ সরাসরি নস্যাৎ করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কখন কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে বলে দেও য়ার প্রয়োজন পড়ে না ইজরায়েলের।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইজরায়েলের তথাকথিত ‘স্যামসন বিকল্প’। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে, যার ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে চরম পরিস্থিতিতে কি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পথে হাঁটতে পারে তেল আভিভ?
ইজরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, দেশটির হাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই নীতির সঙ্গে ‘স্যামসন বিকল্প’-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। এই মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়লে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে এমনকি তাতে নিজেরও বিপুল ক্ষতি হলেও।
এই ধারণার নাম এসেছে হিব্রু বাইবেলের চরিত্র ‘স্যামসন’-এর থেকে। কাহিনি অনুযায়ী, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে শত্রুদের ধ্বংস করতে একটি মন্দির ধ্বংস করেছিলেন তিনি, যার ফলে নিজেরও মৃত্যু হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আত্মবিনাশী কিন্তু প্রতিশোধমূলক কৌশলের প্রতিফলনই দেখা যায় ইজ়রায়েলের সম্ভাব্য পরমাণু নীতিতে। ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নেতা হিটলারের নেতৃত্বে সংঘটিত ‘হলোকাস্ট’-এ লক্ষ লক্ষ ইহুদির মৃত্যু ইজরায়েলের নিরাপত্তা ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকট এড়াতে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
১৯৬৭ সালের ‘ছয় দিনের যুদ্ধ’-এর সময়ও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। একাধিক আরব দেশ একযোগে আক্রমণ চালালে ইজরায়েল পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিল বলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যদিও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ায় সেই পর্যায়ে যেতে হয়নি।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের হামলায় তেল আভিভ ও হাইফা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু-এর দফতর লক্ষ্য করেও হামলার দাবি উঠেছে, যদিও তাঁর মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েল সরকার। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যদি সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং ইজরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে, তবে কি তারা ‘স্যামসন বিকল্প’ প্রয়োগ করবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির উপর।