ওঙ্কার ডেস্ক: মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের মধ্যে অসন্তোষের সুর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বিলকে সামনে রেখে নারী ক্ষমতায়নের বার্তা দিলেও বাস্তবে তার কার্যকরী রূপায়ণে দেরি হওয়ায় সংঘের ভিতরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে আইনটি কার্যকর করার জন্য জনগণনা ও পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে বাস্তবে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কবে চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংঘের একাংশ মনে করছে, বিলটি দ্রুত কার্যকর না করে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে রাজনৈতিকভাবে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ততটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জনগণনা ও ডিলিমিটেশনের মতো জটিল প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিষয়টিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই অযৌক্তিক বলেও মনে করছেন। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে এই প্রক্রিয়াগুলি অপরিহার্য। তাই নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনেই এগোনো হচ্ছে এবং সময় লাগলেও শেষ পর্যন্ত মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণ করা হবে।
এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংরক্ষণ বিলকে কার্যকর না করে তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে, যা আসলে ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার কৌশল। ফলে বিষয়টি শুধু সরকার ও সংঘের মধ্যে মতপার্থক্যের সীমায় আটকে না থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ঘিরে মতবিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং কৌশল উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলতে পারে।