ওঙ্কার ডেস্ক: ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠক ছিল সোমবার। তার পরদিন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার আবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে দেশের রাজনীতিতে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল মুখ খুলেছেন। এদিন সংবাদ মাধ্যমকে এই জল্পনা ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
তৃণমূল ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আলোচনার অংশ বলে বর্ণনা করেছেন বেণুগোপাল। হাত শিবির ও জোড়াফুল শিবিরের সংযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘গুজব ও জল্পনার বিষয়ে আমি কী প্রতিক্রিয়া দেব!’ তাঁর সংযোজন, ‘অবশ্যই, আমরা অগণতান্ত্রিক বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করব।’
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিদ্রোহ শুরু হয়। পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই আবহে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে এই বৈঠকগুলো হয়েছে। তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ আলাদা গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছেন। সূত্রের খবর, বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, তা জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর দুই দলের মধ্যে চলমান যোগাযোগেরই একটি অংশ। দেড় ঘণ্টা ধরে হওয়া সেই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূল একটি শক্তিশালী জোট চায়। সেই বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে জোড়াফুল শিবিরের কোনও আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের সঙ্গে সংযুক্তি প্রশ্নে কংগ্রেস আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। সংযুক্তির প্রস্তাব তৃণমূলের তরফ থেকেই আসতে হবে বলে জানিয়েছে হাত শিবির। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘রাজনীতি হলো সম্ভাবনার শিল্প। তাই আগামীকাল যে কোনও কিছুই ঘটতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই রাহুল গান্ধী নিপীড়িত ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন। তিনিই প্রধানমন্ত্রী হোন। আর যারা এটা মেনে নেবেন, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা… যাদের সাহস নেই, তারা কংগ্রেসে যোগ দেবে না।
প্রসঙ্গত কংগ্রেস ও তৃণমূলের যৌথ ইতিহাস রয়েছে। কংগ্রেস ছাড়ার পর ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে দল দুটি একসঙ্গে লড়াই করেছিল। যদিও পরের বছরই তাদের জোট ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তারা ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ছাতার তলায় আসে।