ওঙ্কার ডেস্কঃ পালাবদলের পর তৃণমূল বিধ্বস্ত। দলের ভিতরে যে ক্ষোভ, অরাজকতা, ডামাডোল পরিস্থিতি ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সরাসরি ফেসবুক পোস্টে নাম না করে দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে ‘লম্পট সাংসদ’ বলে তীব্র আক্রমণ করলেন সুখেন্দু শেখর রায়। একই সঙ্গে মমতাকে ‘ডাকাত রানি’ এবং অভিষেককে ‘অকাল কুষ্মাণ্ড ভাইপো অরণ্যদেব’ বলে বেনজির কটাক্ষ করলেন তিনি। যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
আরজি করের অভয়া কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়ে সুখেন্দু রায় লিখেছেন যে, আর জি কর কাণ্ডে আপামর মানুষ ‘বিচার চাই’, ‘অপরাধীদের ফাঁসি চাই’ দাবি তুলে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। অভয়ার মা-বাবা মেয়ের মরা মুখ দেখার জন্যদ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পদাধিকারীদের বিনীত আবেদন জানাচ্ছেন, ততক্ষণ হাসপাতালের প্রিন্সিপালের চেয়ারে বসে ফিশ ফ্রাই খাচ্ছে এক লম্পট সাংসদ তাঁর পারিষদদের সঙ্গে। নাম না করলেও তীর যে সরাসরি সৌগত রায়ের দিকে, তা বুঝতে রাজনৈতিক মহলের বাকি নেই। তিনি আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, “যে সাংসদ স্বল্পকাল আগে মুম্বাইয়ের এক বিগতযৌবনা অভিনেত্রীর সঙ্গে ধুতি-পাঞ্জাবী পড়ে প্রকাশ্যে নৃত্য করেছে দমদমের এক সাংস্কৃতিক মঞ্চে। যে সাংসদ নির্দ্বিধায় নারদা কাণ্ডে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে বিগলিত কণ্ঠে বলেছিল— so much of money?”
সুখেন্দু রায় লিখেছেন— সীমাহীন দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নির্যাতন, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চরম স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে মানুষ এবার চূড়ান্ত জবাব দিয়েছেন। প্রবল জনমতের ঝড়ে ভাগীরথীর তীরের তথাকথিত ‘বৃহদায়তন বনস্পতি ও আগাছাসমূহ’ সমূলে উৎপাটন হয়েছে রাজ্যজুড়ে। অস্তিত্ব সংকটে পড়ে এই ‘ডাকাত রাণী’ এবার পুরনো দলের সভানেত্রীর কাছে আকুলিবিকুলি করছে আর তার অকাল কুষ্মাণ্ড ভতিজা ‘অরণ্যীদেব’ আর তাদের এমন এক গৃহভৃত্যেির জন্যা, যার বাবা বিদেশী বিধর্মী আর মা ভারতীয় পরিচারিকা…।” পোস্টের শেষে চণ্ডীদাসের বিখ্যাত লাইন টেনে সুখেন্দুর অন্তিম বার্তা— “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
তৃণমূলের অন্দরে এতদিন ধরে যে ক্ষোভ ছিল তা এভাবে প্রকাহস পাবে তা হয়তো কেউ ভাবতেও পারেনি।