ওঙ্কার ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের খুঁটি জেলায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারালেন সাত জন। মৃতদের মধ্যে তিন মহিলা এবং চার শিশু রয়েছে। দ্রুতগতিতে আসা ট্রাকটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ভিড়ের উপর উঠে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ঘটনায় আরও এক জন গুরুতর জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, রাস্তায় বাঁক নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি দুর্ঘটনা ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কোশাম্বি কলোনির কাছে একটি স্কুটার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ঝোপে ঢুকে যায়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা আরোহীকে সাহায্য করতে ছুটে আসেন। কয়েক জন আহত স্কুটারচালককে উদ্ধারে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে, কয়েক জন মহিলা ও শিশু রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় তোরপা দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রেলার তাঁদের ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, নিজেদের সামলে ওঠার সুযোগ পাননি অনেকে। ঘটনাস্থলেই ছয় জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার জন মহিলা। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিরসা নায়েক জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী কাসিলা দেবী, মেয়ে অঞ্জলি এবং এক বছরের নাতি সৌরভ। তাঁর আরেক মেয়ে খুশবু গুরুতর আহত হয়েছেন। খুঁটি সদর হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
রাজেশ নামে এক ব্যক্তি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন স্ত্রী ফাগন সাঙ্গা, মা কারমি লোহরাইন এবং দুই মেয়ে সুভানি কুমারী ও সোনি কুমারীকে। মাত্র তিন দিন আগেই শ্রমিকের কাজ করতে গুজরাত গিয়েছিলেন রাজেশ। সেখানেই তাঁকে দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ফেলে চালক ও খালাসি পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পলাতক চালক ও তাঁর সহকারীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। খুঁটির পুলিশ সুপার ঋষভ গর্গ জানিয়েছেন, ট্রাকটি তোরপা দিক থেকে আসছিল। রাস্তার তীব্র বাঁক ঘোরার সময় সেটি মানুষের ভিড়ের উপর উঠে যায়। অন্ধকারের কারণে চালক রাস্তার পাশে থাকা লোকজনকে দেখতে পাননি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।