ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিসের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এই প্রবণতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুর এই তিনটি জেলায় এসআইআর-এর আওতায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা তথাকথিত তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই জেলাগুলিতে মোট ভোটারের প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এই নোটিস পেয়েছেন। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে এই হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বা দক্ষিণবঙ্গের তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এই নোটিসের হার অনেকটাই কম, কোথাও কোথাও তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এই বৈষম্যমূলক চিত্র সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোটারদের লক্ষ্য করেই পরিকল্পিতভাবে এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে ভোটাধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্য বা দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিরাও নোটিস পেয়েছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় স্তরে অভিযোগ উঠছে, নামের বানান, ঠিকানার সামান্য অমিল বা ডেটাবেসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই বহু মানুষকে শুনানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে, তা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়। এই ব্যবস্থায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুলভাবে ‘অসঙ্গতি’ চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। তবুও বিপুল সংখ্যক নোটিস জারি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নির্দিষ্ট সময়ে শুনানিতে হাজির হতে না পারলে বা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা এবং এই প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
