ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারসভায় এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী। তৃণমূলের দাবি, তাঁর বক্তব্য উস্কানিমূলক এবং তা ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এর ফলে নিরপেক্ষ ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেও পরবর্তীতে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দল থেকে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর থাকে এবং ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের আগে তাঁকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
নির্বাচনের মুখে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।