ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা। দলের একাংশ সাংসদের প্রকাশ্য অবস্থান বদল এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে একাধিক সাংসদের তৎপরতা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সম্ভাব্য ভাঙনের প্রশ্ন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা সাংসদদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। আগে যেখানে প্রায় ২০ জন সাংসদের সমর্থনের দাবি করা হচ্ছিল, এখন সেই সংখ্যা ২২-এ পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ লোকসভায় দলের সাংসদদের একটি বড় অংশ যদি পৃথক অবস্থান নেন, তবে তা সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। সূত্রের খবর, তাঁরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। সেই বৈঠকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সংসদীয় স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবু ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাম্প্রতিক সময়ে বারবার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান নেতৃত্বের একাংশ দলের মূল আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি থেকে সরে এসেছে। সেই কারণেই বহু সাংসদ বিকল্প অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী শিবিরের অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লোকসভার সাংসদদের একাংশ যদি প্রকাশ্যে আলাদা অবস্থান নেন, তাহলে তার প্রভাব রাজ্যের সাংগঠনিক স্তরেও পড়তে পারে।
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে পরিস্থিতিকে ততটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের শীর্ষ মহলের বক্তব্য, সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা দলের ঐক্যকে নষ্ট করতে পারবে না। পাশাপাশি দলবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।