ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা পর্বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। পূর্ব বর্ধমানের জামুড়িয়া বিধানসভার অন্তর্গত চুরুলিয়া গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকাই দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, দলীয় নথি এবং প্রচারের সামগ্রী পুড়ে যায়।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। শাসকদলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস ছড়াতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, বিরোধী শিবির ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা দাবি করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নাম জড়ানো হচ্ছে।
শুধু জামুড়িয়াই নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর এবং নোয়াপাড়াতেও তৃণমূল প্রার্থীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে প্রার্থীদের ঘিরে বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিরোধী দলের কর্মীরা ভোটের ফলাফল ঘিরে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ করে। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কড়া নির্দেশ, কোনওভাবেই যেন ভোটগণনা বা ফলাফল প্রক্রিয়ায় অশান্তি ছড়াতে না পারে এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে একাধিক জায়গায় এই ধরনের সহিংসতার অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। প্রশাসনের উপর এখন বড় চ্যালেঞ্জ, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শান্তি বজায় রাখা