অরূপ ঘোষ, ওঙ্কার ডেস্ক: বছর শেষে শীতের দাপট ক্রমশ বাড়ছে জঙ্গলমহলে। রাত নামলেই হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম জেলা। শীতের এই আচমকা তীব্রতায় জনজীবনে পড়ছে স্পষ্ট প্রভাব, বদলে যাচ্ছে দৈনন্দিন ছন্দ। ঠান্ডায় নাজেহাল ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষ। বেলা বাড়লেও কমছে না শীতের দাপট, উল্টে সকালের দিকে কুয়াশার প্রভাব বাড়ছে। এর জেরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে যানবাহন চালকদের পড়তে হচ্ছে চরম সমস্যায়।
শীত থেকে রক্ষা পেতে রাস্তাঘাট, চৌরাস্তা ও বাজার এলাকায় আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে বহু মানুষকে। জেলার গড় তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে হাওয়ায় কাঁপছে শহর ও গ্রাম। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। লোকজন কমে আসছে, দোকানপাটও তুলনামূলকভাবে আগেভাগে গুটিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে চায়ের দোকানগুলোতে ব্যতিক্রমী চিত্র—হাত গরম করতে সেখানে জমে উঠছে আড্ডা।
ভোরের দিকে ঘাস, পাতা এবং গাড়ির জানালায় জমছে শিশিরবিন্দু—যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে শীতের পূর্ণ আগমন। গরম জামা, চাদর ও মাফলার গায়ে জড়িয়েই বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন ঝাড়গ্রামবাসী। হঠাৎ নেমে আসা এই ঠান্ডায় জেলার মানুষ এখন স্পষ্টভাবেই টের পাচ্ছেন শীতের কঠিন আঁচ। তবে শাল-মহুলের জঙ্গলঘেরা অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামে শীতের এই আবহ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো—যা জেলার পর্যটনকে নতুন করে চাঙ্গা করছে।
