স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের উত্তেজনা তুঙ্গে, এবার শুরু শেষ চারের লড়াই। ২১ বছর পর, বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হবে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনা। এই হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরের লড়াই শুরু । আটলান্টা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালেরকিন্তু এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে যথেষ্ট শান্ত আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ঠিক যেমন তাঁর ছাত্ররা গোল করলেও তিনি শান্ত থাকেন। স্কালোনির কথায়, “এটা শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ। তাই আমি এটাকে ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখতে চাই। আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা একটা কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামব। ওদের অসাধারণ একজন কোচ রয়েছেন, যে খেলাটা ভালো বোঝে। এটুকুই বলব।”
প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই প্রবাদপ্রতিম এবং কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন ফুটবলার মারাদোনা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা গোলটি করেছিলেন। আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে আবেদন করেছিল, সেমিফাইনালে অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলতে চায় তারা। অর্থাৎ, আকাশি-সাদার বদলে গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে নামার অনুমতি চেয়েছিলেন মেসিরা। সেই অনুমতি দিয়েছে ফিফা। তারা জানিয়েছে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড তাদের হোম জার্সি, অর্থাৎ সাদা রঙের জার্সি ও আর্জেন্টিনা অ্যাওয়ে জার্সি, অর্থাৎ গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে খেলবে।
নেপথ্যে রয়েছে ৪০ বছরের পুরনো এক লড়াই। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। সেখানে এই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই মারাদোনা ‘হ্যান্ড অফ গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল দু’টিই করেছিলেন। ২-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালে অ্যাওয়ে নীল জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচও জিতেছিল তারা। কিন্তু ২০০২ সালে আকাশি-সাদা জার্সি পরে খেলে হারতে হয়েছিল। তাই এ বার ১৯৮৬ সালের সেই অ্যাওয়ে জার্সি পরেই আবার নামতে চলেছে আর্জেন্টিনা। খেলা শুরুর আগে ইংল্যান্ডের উপর চাপ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে তারা।

১৯৮৬ সালে বিশ্বজয়ী হয়েছিল তারা। সেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা.দলের কোচ জানাচ্ছেন, “ইচ্ছাশক্তি জোর অনেক। আমরা কখনোই চাইনি যে, ম্যাচটা পেনাল্টি অবধি গড়াক। তাই কীভাবে খেলেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আসল কথা হল, জয়ের জেদ এবং খিদে। এখন আমরা সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছি। তাই এবার আর কোনওভাবেই বিষয়টাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, খুশি হওয়ার সমস্ত কারণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা তৃপ্ত এবং উত্তেজিত। আপাতত পরের ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। লড়াই হবে শেষতক। নিজেদের সমস্ত শক্তিকে কাজে লাগাতে চাই।”পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে ৬টি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিপক্ষের জালে জড়িয়েছে মোট ১৪টি গোল। হজম করেছে মাত্র ৬টি। তার মধ্যে ক্লিনশিট রয়েছে দুটি ম্যাচে। অপরদিকে, ৬টি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। একটি ড্র হয়েছে। বিপক্ষের জালে জড়িয়েছে ১২টি গোল। হজম করেছে ৮টি গোল। ক্লিনশিট আছে দুটিতে।