ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার দুপুর বেলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ল তারাতলার এক নির্মিয়মান গোডাউন। ঘটনার খবর পেয়েই সেখানে দ্রুত উদ্ধারকারী দিল গিয়ে পৌঁছায়। দমকল, পুলিশ বাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করে। একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গোডাউনের ভিতরে আটকে থাকতে পারে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক বলে অনুমান করা যাচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে এলাকায়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে । ইতিমধ্যেই কন্ট্রোলরুম চালু করেছে প্রশাসন। ঘটনা পরিদির্শনে পোঁছে গিয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এলাকাটি ঘিরে ফেলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য আনা হয় ভারী যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি হাতে-কলমেও উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায় উদ্ধারকারী দলকে, যাতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত বের করে আনা সম্ভব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভবনটি নির্মাণের কাজ চলছিল এবং হঠাৎ করেই তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারদিকে ধুলোয় ঢেকে যায় এলাকা। কেউ কিছু বোঝার আগেই বহু টন কংক্রিট ও লোহার কাঠামো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে সরকারি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান আরও জোরদার করে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোনও শব্দ বা নড়াচড়ার ইঙ্গিত মিলছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের চাঁই সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ভবনের নকশা, নির্মাণসামগ্রীর গুণমান এবং কাজের তদারকিতে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং কোনওরকম গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।