ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে একদিকে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,৫০০ মেরিন ও নৌসেনা সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। এই বাহিনী একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে অঞ্চলে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, তার ওপর নতুন করে এই বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠানোকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট কঠোর। দেশের একটি প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক প্রথম পাতায় বড় করে বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, “মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিণতি”। সেই বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং যে কোনও আক্রমণকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত ইরান। এমনকি ইরানকে আমেরিকার জন্য নরক বলেও অভিহিত করেছে। ইরান বরাবরই নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে, আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে, ফলে সংঘাতের পরিসর ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এতে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একদিকে মার্কিন সামরিক শক্তির প্রদর্শন, অন্যদিকে ইরানের কড়া বার্তা দুইয়ের সংঘর্ষে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দের মতে ওয়াশিংটন যদি ইরানে স্থলসেনা পাঠায় তাহলে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়বে। অতিতে একাধিক দেশে নিজেদের সেনা পাঠিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। ইরাক, আফগানিস্তানে নিজেদেরর সেনা পাঠিয়ে ‘বুটস্ অন দ্যা গ্রাউন্ড’ অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ইরানের উপর যদি এমন হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র তাহলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে। কারণ ইরান বরাবর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তারাও মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ইরান ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে ইরানের মাটিতে ১০ লক্ষ সেনা তৈরি আছে।
পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি এক মাস পার হলেও শান্তির পথ এখনও দূর অস্ত। পাকিস্তানের মধ্যস্থায় রাজি হলেও আমেরিকার সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা বা শান্তির কথা বলতে নারাজ তেহরান। এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটোর কাছে সাহায্য চাইলে না করে দেয় সংঘ। এমনকি হরমুজ প্রনালো খুলতে চিন, জাপানের কাছে আর্জি জানালেও কোন প্রতিক্রীয়া আসেনি বেনজিং বা টোকিও-র তরফ থেকে।
পাশপাশি ইরান কতৃক ভারত মহাসাগরে ব্রিটেন সেনা ঘাঁটি দিয়াগো গার্সিয়া তে হামলার দাবী করে ইজরায়েলও ইউরোপের দেশের কাছে এই যুদ্ধে সহযোগিতার আর্জি জনান। কিন্তু সেই আবেদনেরও সমর্থনে কোনো দেশ এগিয়ে আসেনি। পালটা বহু দেশ এই অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে। এবার যদি পেন্টাগনের পদাতিক সেনা ইরানের মাটিতে অভিযান চালায় তাহলে বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষপটে আমেরিকা কার্যত কোণঠাসা হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখলেও, উত্তেজনা প্রশমনের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও দেখা যাচ্ছে না।