স্পোর্টস ডেস্ক : আইপিএল ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়নরা আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে বার্তা দিয়ে রাখল তার প্রতিপক্ষদের। এই মরসুমেও আরসিবি সহজ হবে না। গত মরসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলেও, জয়ের উৎসব পরিণত হয়েছিল আতঙ্কেয় সব কিছু কাটিয়ে, প্রয়াত ভক্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই মরসুমে খেলতে নেমেছিল বেঙ্গালুরু। শনিবারই বেঙ্গালুরু বনাম হায়দরাবাদ ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে গেল আইপিএল ২০২৬। যেখানে বাজিমাত বিরাট কোহলিদের। ২৬ বল বাকি থাকতেই সহজ জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বাড়িয়ে নিল বেঙ্গালুরু।
ঘরের মাঠে টস জিতে প্রথমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠান আরসিবির অধিনায়ক রজত পাতিদার। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আরসিবি। দুই ওপেনার ত্রাভিস হেড ১১ ও অভিষেক শর্মা ৭ রান করে ফিরে যান। টি২০ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ফর্মে ফিরলেও আইপিএল-এর শুরুটা আবারও ভালো হল না ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের বিগ হিটারের। তবে চেনা ফর্মেই পাওয়া গেল ঈশান কিষানকে। একদিকে দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব, অন্যদিকে মাত্র ২৩ রানে ফিরে গিয়েছেন দলের দুই ওপেনার। এই অবস্থায় নিজের কাঁধেই তুলে নেন দলের রানের দায়িত্ব। ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল আটটি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে।
এছাড়া নীতিশ কুমার রেড্ডি ১, এনরিচ ক্লাসেন ৩১, সলিল অরোরা ৯, অনিকে ভার্মা ১৮ বলে ৪৩, হর্ষ দুবে ৩, হর্ষল প্যাটেল ০ রানে ফিরে যান। ডেভিড পাইন ৬ ও জয়দেব উনাদকট ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তার মধ্যেই ২০০ রানের গন্ডি পেরিয়ে যায় হায়দরাবাদ। ২০ ওভারে ২০১-৯-এ থামে তারা। বেঙ্গালুরুর হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন জেকব ডাফি ও রোমারিও শেফার্ড। একটি করে উইকেট ভুবনেশ্বর কুমার, অভিনন্দন সিং ও সুয়াশ শর্মার।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫.৪ ওভারেই খেলা শেষ করে দেয় বিরাট কোহলির ব্যাট। যোগ্য সঙ্গ দেবদূত পারিক্কলের। শুরুতে অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল বেঙ্গালুরুও। মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান ওপেনার ফিল সল্ট। সেখান থেকেই দেবদূত পারিক্কলকে নিয়ে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্যাট করতে শুরু করেন কোহলি। দু’জনের ব্যাট থেকেই আসে হাফ সেঞ্চুরি। ২৬ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬১ রান করে আউট হন পারিক্কল। ১২ বলে ঝোড়ো ৩১ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। রানের খাতাই খুলতে পারেননি জিতেশ শর্মা। তবে লক্ষ্যে পৌঁছতে সমস্যায় পড়তে হয়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। ৩৮ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬৯ রান করে অপরাজিত থাকেন বিরাট কোহলি। ১৬ রানে অপরাজিত তাকেন টিম ডেভিড।
ফের নিজের চেনা ছন্দে কোহলি। তিনি বলেন, “আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পেরে খুব ভাল লাগছে। এক বছর আগে এই মাঠেই শেষ বার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলাম। তবে সাম্প্রতিক কালে এক দিনের সিরিজ়ে যে ভাবে খেলেছি সেটা আমাকে ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। যে ধরনের শর্ট খেলি না, সেই শট খেলার চেষ্টা করিনি। আমি জানি যতক্ষণ আমার ছন্দ রয়েছে এবং যত ক্ষণ নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি, তত ক্ষণ সব ঠিকঠাকই হবে। আজ আরও এক বার মাঠে নেমে সেটা দেখাতে পেরেছি। গত ১৫ বছর ধরে যে ধরনের সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং যতগুলো ম্যাচ আমরা খেলেছি, তাতে সব সময় বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার একটা ঝুঁকি থাকতই। তাই এখন এই বিরতিগুলো আমাকে প্রচন্ড সাহায্য করে।”
তিনি আরও বলেন, “ আমি তরতাজা থাকি, উত্তেজিত থাকি। মাঠে ফিরলে সব সময় ১২০% দেওয়ার চেষ্টা করি। কম প্রস্তুতি নিয়ে কখনও খেলতে নামি না। আসলে এই বিরতিগুলো আমাকে মানসিকভাবে তরতাজা রাখে। যত ক্ষণ আপনি শারীরিকভাবে ফিট থাকছেন এবং মানসিক ভাবে তরতাজা থাকছেন, তত ক্ষণ সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং দলের জন্য আপনি অবদানও রাখতে পারবেন। ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই তো আমার কাজ। আমি কখনও জায়গা ধরে রাখতে চাই না। সব সময় ভাল খেলতে চাই এবং দলের হয়ে অবদান রাখতে চাই।”

হায়দরাবাদের অধিনায়ক ঈশান কিশন স্বীকার করে নিয়েছেন, কোহলিকে আউট করা দরকার ছিল। সেটা পারেননি বলেই তাঁদের হারতে হয়েছে। ঈশান বলেন, “বিপক্ষের ব্যাটারেরা দারুণ খেলেছে। বিশেষ করে বিরাট ভাই। ওর উইকেট নেওয়া দরকার ছিল। আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। প্রথম ম্যাচে এ ধরনের ভুল মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু ভবিষ্যতে আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।”