ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের মেইনপুরী জেলার একটি ছোট গ্রামে ঘটে গেল এক বিরল সততার নজির। দেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রীতা দেবীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা জমা পড়ে। কিন্তু সেই টাকা তাঁর নয় এই দাবী কএ সেই টাকা নিতে অস্বীকার করেন রীতা দেবী। এই ঘটনা সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মহিলার সততার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেটিজেনেরা।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন রীতা দেবী নবরাত্রির সময় এটিএমে গিয়ে নিজের ব্যালেন্স চেক করেন। পর্দায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে প্রথমে তিনি হতবাক হয়ে যান এবং বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পেরে একাধিকবার ব্যালেন্স যাচাই করেন। বারবার একই অঙ্ক দেখার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন রীতা দেবী। স্বাভাবিকভাবে এমন ঘটনায় অনেকেই লোভে পড়ে যেতে পারেন, কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সদস্যদেরও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই অর্থ তাদের নয় এবং এই টাকা থেকে এক পয়সাও খরচ করা যাবে না।
পরদিন ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজে সেখানে উপস্থিত হন এবং পুরো বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। অত্যন্ত সরলভাবে তিনি বলেন, এই টাকা তাঁর নয় এবং এটি যেন ব্যাংক ফেরত নিয়ে নেয়। তাঁর এই স্পষ্ট ও সৎ অবস্থান ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও বিস্মিত করে। ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমান, কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা লেনদেন সংক্রান্ত ভুলের কারণেই এত বড় অঙ্কের অর্থ তাঁর অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় রীতা দেবীর সততার ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর এই সততার কাহিনি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই একে বর্তমান সময়ে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। যেখানে সামান্য আর্থিক লোভেও মানুষ ভুল পথে পা বাড়ায়, সেখানে ১০ কোটি টাকার প্রলোভন উপেক্ষা করে এমন সততার পরিচয় সমাজের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।