ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলার জেরে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান পাকিস্তানের সশস্ত্র গোষ্টী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্নু জেলার ডোমেল এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী সোজা ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে এবং গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকায় গুলির শব্দও শোনা যায়, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনায় অন্তত চারজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, এটি পরিকল্পিত জঙ্গি হামলা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।