ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার পর পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধতন পদে একাধিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এই বদলি করা হয়েছিল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্য নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ হলেও তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বুধবার মালদহে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার পর। যে ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ সুপ্রিম কোর্টও।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মালদহে বিচারকদের আটকে রাখা এবং তাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘এটা বিচারকদের ভয় দেখানোর একটা স্পষ্ট চেষ্টা। শুধু তাই নয়, আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মনে হচ্ছে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ এটা।’ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার কাজে জড়িত থাকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করতে পারায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। এই ঘটনায় এনআইএ বা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও মালদহের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশের শীর্ষ কর্তারা ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন, কেন আগে পদক্ষেপ করা হয়নি তা জানতে চেয়েছে কমিশন। পাশাপাশি শো কজ করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-কে। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি। মোথাবাড়ি ছাড়াও সুজাপুর-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে।