ওঙ্কার ডেস্ক: বেঙ্গালুরুর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শহরের বাগালুর এলাকার একটি রাস্তায় এক তরুণকে অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পথচারীদের চোখে পড়তেই বিষয়টি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণটি রাস্তার ধারে একেবারে অনড় অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে তার শরীরে কোনও নড়াচড়া নেই, চোখও প্রায় স্থির। আশেপাশের মানুষজন তাকে লক্ষ্য করলেও তিনি যেন সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াহীন। এই অস্বাভাবিক আচরণই নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনার জন্ম দেয়। অনেকেই দাবি করতে শুরু করেন, এটি তথাকথিত জম্বি ড্রাগ-এর প্রভাব হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলিতে বলা হয়, জাইলাজিন নামের এক ধরনের শক্তিশালী সেডেটিভ, যা সাধারণত পশু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, সেটিই এই অবস্থার কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই ড্রাগের অপব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এটি অন্যান্য মাদকদ্রব্যের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। এর প্রভাবে মানুষের শরীর প্রায় অসাড় হয়ে যায়, চেতনা ধীরে ধীরে কমে আসে এবং ব্যক্তি দীর্ঘ সময় এক ধরনের ট্রান্স বা অচেতন অবস্থায় থাকতে পারে।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা বা স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। ওই তরুণের পরিচয়, তার শারীরিক বা মানসিক অবস্থা, কিংবা তার এমন আচরণের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে শুধুমাত্র একটি ভিডিওর ভিত্তিতে জম্বি ড্রাগ-এর উপস্থিতি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা, চরম ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা কোনও স্নায়বিক সমস্যার কারণেও মানুষ এমন প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই যাচাই-বাছাই না করে কোনও নির্দিষ্ট ড্রাগকে দায়ী করা উচিত নয় বলেই মত তাদের। এর আগেও চন্ডীগড়ে একই ধরনের কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে মানুষকে দীর্ঘ সময় এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেসব ক্ষেত্রেও জোম্বি ড্রাগ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, পরবর্তীতে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।