ওঙ্কার ডেস্ক : এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা বঙ্গে ঘাসফুলকে আর চায় না। পরপর তিন বার ক্ষমতায় আসার পর ছাব্বিশের ভোটে প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসনে বিজেপির কাছে হেরে যায় তৃণমূল। এতেই দলের পতনের অধ্যায় শুরু। নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই জেলায় জেলায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, নেতা কর্মীদের উপর হামলা তো চলতেই থাকে পাশাপাশি দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করে প্রশাসন। এর মধ্যেই তৃণমূলের একাধিক কর্মী সমর্থক বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। দলের একাংশ দাবি তোলে, ভোট পরবর্তী সময়কালে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের উচিত ছিল আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাতে ব্যর্থ হয়েছে ঘাসফুল। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে নামতে চলেছেন। দেখা করবেন আক্রান্ত দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী শনিবারেই নিজের সফর শুরু করবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই বেলেঘাটা এবং সোনারপুর দক্ষিণে যাবেন তিনি। সেখানে সঞ্জু কর্মকার এবং বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের সঙ্গে দেখা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হন দুইজন দলীয় কর্মী। তাদের বাড়ি যাবেন অভিষেক, এমনটাই জানা যাচ্ছে। এর পরবর্তীতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেই নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর। ভোট পরবর্তী অবস্থায় আক্রান্ত দলীয় কর্মী সমর্থকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব, কিন্তু ফলাফলের এতদিন পরে এই প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তাদের মতে খারাপ সময়ে তারা দলের পাশে থেকেছে। ঠিক তেমনভাবেই দলের কর্মী দের পাশে থেকে আশ্বস্ত করার সমান দায়ভার বর্তায় দলের উপর মহলেরও।
ভোটগণনার দিনই শেষবারের মতো গণনাকেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সময় তাঁকে ‘চোর’ স্লোগানের মুখেও পড়তে হয়। এরপর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি তাঁকে। যদিও কালীঘাটে দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে একাধিকবার উপস্থিত ছিলেন তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকগুলিতে বারবার অভিষেকের সিদ্ধান্ত ও আইপ্যাকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ভোটের আগে সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতির বদলে সমীক্ষা ও কৌশল নির্ধারণে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই এই ভরাডুবি।
এছাড়াও ক্ষমতায় থাকার সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং দূরত্ব বজায় রাখার অভিযোগও উঠেছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। ভোটে বিপর্যয়ের পরেও কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের একাংশ। তৃণমূলের অন্দরেই বারবার প্রশ্ন উঠেছে, শুধুমাত্র বৈঠক করে বা ঘরবন্দি রাজনীতি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ময়দানে নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখনও পর্যন্ত কোনও সাংবাদিক বৈঠক করেননি। ভোটে ভরাডুবির পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার দাবি উঠলেও তা খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরও সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সরাসরি পরিস্থিতি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভোটের ফল প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর অবশেষে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।