ওঙ্কার ডেস্ক: ১৯৮৬ সালে জাপান সরকার কর্তৃক ব্যান করা হয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৩ জুন জাপান আনুষ্ঠানিক ভাবে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০ বছর ধরে এই আমের আমদানি-রফতানি চালু থাকার পর চলতি গ্রীষ্মের মরসুমে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সানায়ে তাকাইচি সরকার। এর ফলে গ্রীষ্মকালীন আম রপ্তানি মৌসুমে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বিখ্যাত আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লি জাতের আম। সূত্রের দাবি, চলতি বছরের শুরুতে জাপানের একটি দল পরিদর্শনের সময়ে উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরে আমের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পান। তারপরেই জাপান সরকার ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করেছে। এর ফলে ভারতের আলফানসো, কেশর, ল্যাংড়ার মতো উৎকৃষ্ট ভারতীয় আম জাপানের বাজারে এ বার পৌঁছতে পারছে না। জাপান দু’দশক আগেও ফলের মাছি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারতীয় আমের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ভারত শোধন পদ্ধতি উন্নত করার পরে ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু কেন ব্যান করা হল এই ভারতীয় আম। জাপানী ফল গবেষকদের দাবি, ভারতে আম চাষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। তার সঙ্গে থাকে নানান ধরেনের অণুজীব। এই সকল অণুজীবরা জাপানে প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি হতে পারে এই কারনে বন্ধ করা হয়েছে আমের আমদানি। তবে শুধু জাপানেই নয়, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের অন্যান্য গন্তব্যের মতো দেশগুলোতেও রপ্তানির জন্য আমের তাপ প্রক্রিয়াকরণ একটি অপরিহার্য বিষয়। ফসল তোলার পরবর্তী যেকোনো রোগ থেকে আমকে মুক্ত রাখতে গরম জল বা বাষ্পীয় তাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা ভারতীয় আম চাষিদের আন্তর্জাতিক রপ্তানি মান পূরণে সক্ষম করে তোলে। “এ বছর জাপান অন্য দেশ থেকে আম সংগ্রহ করেছে, এবং এমন অবহেলা হলে ভারত আরও বাজার হারাবে। প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে,” ওই ব্যক্তি বলেন।
ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড, মেক্সিকো এবং তাইওয়ান টোকিওতে আমের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। তবে এ বছর পাকিস্তান ও ভিয়েতনামও জাপানিদের জন্য বিকল্প উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। তাইওয়ানও টোকিওতে ফলের আরও চালান পাঠিয়েছে। যদিও ভারতের জন্য জাপান আমের একটি প্রধান রপ্তানি বাজার নয় — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রধান গন্তব্যস্থল হিসেবে রয়ে গেছে, সূত্র জানিয়েছে যে নয়াদিল্লিকে অবশ্যই একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে। জাপানে ভারতের মোট আম রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন। ভারত বিশ্বের প্রায় ৪৫% আম উৎপাদন করে, কিন্তু রপ্তানিতে এর অংশ তুলনামূলকভাবে কমই থেকেছে।