ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভার হাজিরা খাতার সইয়ের সঙ্গে পুরনো সই-র গড়মিল থাকার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হলেন সিআইডি-র আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে একজন ‘হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট’–কে সঙ্গে নিয়ে নয়নার ঠিকানায় যান তদন্তকারীরা। সে সময়ে অবশ্য বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না। পরে সন্ধ্যায় ফের হাজির হন গোয়েন্দারা। বিধায়কের সইয়ের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয় বলে সূত্রের খবর। বিধানসভায় শপথের সময়ে এবং হাজিরা খাতায় নয়নার ‘সই’–এ অসঙ্গতি রয়েছে বলে বিধানসভার সচিবালয় থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় নালিশ জানানো হয়। সেই বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করতেই এ দিন দু’বার বিধায়কের বাড়িতে যান গোয়েন্দারা। ইদের কারণে দুপুরে বাড়িতে ছিলেন না নয়না।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় শপথ গ্রহণের দিন প্রটেম স্পিকারের কাছে সই করার নিয়ম রয়েছে সমস্ত বিধায়কের। সেই মত সই করেছিলেন নয়না। কিন্তু সেই সই এর সঙ্গে মিল নেই তাঁর আগের করা সই-র সঙ্গে। এই বিষয়ে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি সেদিন বিধানসভায় তাঁর সই সামান্য বেঁকে গিয়েছে। অকারণে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভার শপথ থেকে শুরু করে চিঠি –– নয়নার সই নিয়ে সর্বত্র বিভ্রান্তি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিধায়ক বলেন, ‘আমার বাড়িতে দু’বার ভবানী ভবন থেকে সিআইডি–র একটি দল এসেছিল। প্রথমবার আমি ছিলাম না। বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়কদের নিয়ে হওয়া একটি মিটিংয়ের খাতায় আমার নাম লেখা থাকলেও, জায়গার অভাবে সই করা হয়নি। সেটা নিয়ে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ প্রশ্ন করেন। আমি বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, ওই নাম আমার, হাতের লেখাও আমারই। শুধু জায়গার অভাবে পুরো সই করতে পারিনি। আমি যা বলেছি, সেটা ভিডিয়ো করেও ওরা নিয়ে গিয়েছে।’ এই বিষয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, ‘সি আই ডি এমনি এমনি তো যায়নি, নিশ্চয় কোনও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এর পাশাপাশি সজল বলেন, “যদি সইটি তিনি নিজেই করে থাকেন, তবে তো কোনও ভয়ের বা অসুবিধার কারণ নেই। কিন্তু যদি কোনও রকম ট্যাম্পারিং বা জালিয়াতি করা হয়ে থাকে, তবে আইন অনুযায়ী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”