ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ১৫ বছরের জমানার অবসানের পর একে একে দলের নেতারা মুখ খুলে বিতর্ক তৈরি করেছেন। চলতি সপ্তাহে সমাজ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্য পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন’ বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। যা নিয়ে জোর শোরগোল তৈরি হয়েছিল। এবার জোড়াফুল শিবিরের ওই সাংসদ বিস্ফোরক দাবি করলেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল বেশিদিন টিকবে না!’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ একেবারেই অন্ধকার। আমার মনে হয়, এই দল বেশিদিন টিকতে পারবে না। যেমনটা হয়েছিল বাংলা কংগ্রেসের ক্ষেত্রে, যে দলটি ১৯৬৬ সালে অজয় মুখার্জি গঠন করেছিলেন এবং ১৯৭১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে বাধ্য হয়েছিল। ৫-৬ বছরের মধ্যেই দলটি উধাও হয়ে যায়।’ আরজি কর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আরজি করের ঘটনাটি যেভাবে সামলানো হয়েছিল—তা ভুল ছিল। অপরাধীদের আড়াল করার স্পষ্ট চেষ্টা ছিল। এর জন্য পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, আরজি কর ইস্যু প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিল ‘জনগণের অনুভূতি দলের বিরুদ্ধে’। ‘দল তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।’ বলে দাবি করেন বর্ষীয়ান ওই সাংসদ। সেই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। তৃণমূলের নেতারা যে দুর্নীতির পাহাড় তৈরি করেছেন তা অকল্পনীয় বলে মত সুখেন্দুর। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল সাংসদ লিখেছিলেন, ‘খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্চের ‘আইডস’-এর দিন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার সেনেটের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে নিহত হন। রোমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ‘আইডস’ সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই ও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখকে বোঝানো হত। কিন্তু এ বছরের মে মাসের ‘আইডস’ আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্য পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।’ প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে দু দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এপ্রিলে। ফল ঘোষণা হয়েছে ৪ মে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০ আসন।