অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি “ইরানকে ধ্বংস করে দেব” বলে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। ফের নতুন যুদ্ধের প্রহর গুনছিল বিশ্ব। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা কূটনৈতিক চাল দিল তেহরান। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে একটি পরমাণু প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে আলোচনা শুরু হবে একটাই শর্তে, আমেরিকাকে আগে মানতে হবে ইরানের দেওয়া ৭টি দাবি।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখন ওয়াশিংটনের বিবেচনাধীন। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক মহসেন রেজাই স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “কূটনীতির বিষয়ে আমরা আমেরিকাকে ৭টি শর্ত দিয়েছি। যতক্ষণ তারা সেই শর্তগুলি মানবে না, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালী খুলব না, আলোচনাতেও বসব না।”
ইরানের ৭টি শর্ত কী কী?
সরকারিভাবে ৭টি শর্তের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ‘খালিজ টাইমসে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের দাবিগুলি সম্ভবত এরকম:
১. লেবানন-সহ সর্বত্র সম্পূর্ণভাবে শত্রুতা বন্ধ করা
২. ইরানি বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া
৩. ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
৪. ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া
৫. মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো
৬. যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া
৭. ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলা বন্ধ করা
ওয়াশিংটন অবশ্য বলছে, যেকোনও প্রাথমিক আলোচনাতেই পরমাণু ইস্যু থাকতেই হবে।
যুদ্ধ কি আবার ফিরবে?
এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছে যুযুধান দুই পক্ষই। কারণ, মিডটার্ম নির্বাচনের পর আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ভোটের পর যুদ্ধ ফের শুরুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, যুদ্ধ ফিরলে আরও বড় পাল্টা জবাব দেবে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাল্টা হামলা করে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হয়। পরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে ইয়েমেনেও, যেখান থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি কেন্দ্র, বিমানবন্দর-সহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
এই আবহেই ইরানের এই প্রস্তাবকে যুদ্ধের আগুন নেভানোর শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।