অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: আমেরিকার দুই বৃহত্তম শহরের দায়িত্ব এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের হাতে। নিউ ইয়র্কে জোহরান মামদানির পর এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচিত হলেন কেরলের মেয়ে নিত্যা রামন। আর এই জয়কে সামনে রেখেই ভারতের মেয়র ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থরুর।
সমাজমাধ্যম এক্সে থরুর লিখেছেন, “তিরুবনন্তপুরমের কন্যা নিত্যা রামন এখন লস অ্যাঞ্জেলেসের নতুন মেয়র।” এর পরেই তাঁর কটাক্ষ, “আমি নিশ্চিত, তাঁরা ভারতে তাঁদের সমকক্ষদের চেয়ে অনেক ভালো কাজ করবেন। কারণ ভারতে ব্রিটিশ আমলের ব্যবস্থা মেয়রদের ক্ষমতাহীন করে রেখেছে। কর্তৃত্ব আর বাজেট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে এখানকার মেয়রদের হাতে শহর চালানোর মতো কোনও আসল ক্ষমতাই থাকে না।”
কে এই নিত্যা রামন?
কেরলে জন্ম নিত্যার। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকা চলে যান তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে আরবান প্ল্যানিংয়ে স্নাতকোত্তর করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করতেন। সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘সেলাহ নেইবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’।
২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে প্রথম দক্ষিণ এশীয় সদস্য এবং প্রথম এশীয়-আমেরিকান মহিলা হিসেবে ইতিহাস গড়েন নিত্যা। ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার জেতেন। এবার মেয়র পদে লড়ে হারিয়ে দিলেন বিদায়ী মেয়র কারেন বাসকে। সর্বশেষ ভোট গণনায় নিত্যা পেয়েছেন ৫২.৭০ শতাংশ ভোট, বাস পেয়েছেন ৪৭.৩০ শতাংশ। তিনিই প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয়, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হলেন।
জয়ের পর নিত্যা এক্সে লিখেছেন, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত।” অন্যদিকে বাসও হার মেনে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি কাউন্সিলমেম্বার রামনকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছি। মসৃণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” জবাবে নিত্যা বিদায়ী মেয়রকে তাঁর নেতৃত্ব এবং জনসেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কী ছিল তাঁর প্রচারের মূল ইস্যু?
বাড়ি ভাড়ার অসহনীয় খরচ, গৃহহীনতা এবং পুর-পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া। এই তিনটি বিষয় ছিল নিত্যার প্রচারের কেন্দ্রে। এছাড়া রাস্তার আলো উন্নত করা এবং গর্ত মেরামতের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
ভারতের মেয়রদের অবস্থা কেন আলাদা?
ভারতের বেশিরভাগ শহরে মেয়র পুরসভার রাজনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক প্রধান হলেও আসল নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না। দৈনন্দিন প্রশাসন এবং বাজেটের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন রাজ্য সরকারের নিযুক্ত মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, যিনি একজন আমলা। এই প্রসঙ্গেই থরুরের বক্তব্য, আমেরিকায় মেয়ররা সত্যিকারের ক্ষমতা পান বলেই শহর চালাতে পারেন। ভারতে সেই ব্যবস্থা না থাকায় মেয়র পদটাই কার্যত অলঙ্কারে পরিণত হয়েছে।