নিজস্ব সংবাদদাতা : দলের মধ্যে বিদ্রোহের ঝড়ে সংগঠন মেরামতির কাজে হাত দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মূলত যাঁর বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ থেকে না সরিয়ে তাঁর একাধিপত্যে রাশ টানলেন তৃণমূলনেত্রী। ফলে সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক রইলেন বটে, কিন্তু তাঁর সঙ্গে সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে বেঁধে দেওয়া হল তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। অর্থাৎ এখন থেকে আর একক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় রইলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর থেকে স্পষ্ট দলের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অবজ্ঞা না করে কিছুটা আত্মসমালোচনা ও পর্যবেক্ষণের পথে হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার তৃণমূলের সমস্ত সংগঠন ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেয় তৃণমূল। দলকে নতুন করে লড়াইয়ের ময়দানে ঠেলে দেওয়ার আগে শুক্রবার নতুন করে দল সজানোর কাজে কালীঘাটে বৈঠক করেন মমতা। একাজে নেমে তাঁকে খানিকটা বোঝাপড়ায় আসতেই হল। দলের মধ্যে অভিষেকের কথাই যে শেষ কথা, এমনটা আর রইলো না। অভিষেকের সঙ্গে আরও দু’জনকে জুড়ে দেওয়ার মধ্যে মমতা দিয়ে চাইলেন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, যেখান থেকে শুরু হতে পারে নতুন প্রক্রিয়া।
যার সূচনা হিসেবে ঢেলে সাজানো হল দলের গঠনতন্ত্র। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হল। ঘাসফুলের ইতিহাসে একটা যুগের অবসান হল। ২৮ বছর পর রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানো হল প্রবীণ দলনেতা সুব্রত বক্সীকে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে অব্যাহতি চাইছিলেন তিনি। তাঁর জায়োগায় এলেন প্রাক্তন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সহ সভাপতি হলেন লোকসভা সদস্য সজদা আহমেদ, রাজ্যসভা সদস্য মমতা বালা ঠাকুর, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক স্বাতী খন্দকর। রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বাবর আলী, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব ব্যানার্জীকে। দলের এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ডাঃ রানা চ্যাটার্জি, বিদেশ বোস, ত্রিণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চ্যাটার্জি, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।
যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের লোকসভা সদস্য সায়োনী ঘোষকে। প্রাক্তন বিধায়ক মধুরিমা ঠাকুরকে করা হয়েছে যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। দলের লোকসভা সদস্য মালা রায় মহিলা শাখার সভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক করে হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে। দলের ট্রেড ইউনিয়ন শাখার সভাপতি করা হয়েছে মলয় ঘটককে। বেচারাম মান্না এবং পূর্ণেন্দু বসুকে দলের কৃষক ও কৃষি শ্রমিক শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র রইলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জী, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষ।