নিজস্ব সংবাদদাতা , আসানসোল : চেলিডাঙার জিটি রোড লাগোয়া পার্কে নার্সারি চালানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা না করে, সেই পার্কের ভিতরেই এক হকারকে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন আসানসোলের হকাররা।
তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র নেতৃত্বে এদিন পার্কের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন হকাররা। নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের নেতা রাজু আলুওয়ালিয়া। তাঁর অভিযোগ, “বছর কয়েক আগে পৌরনিগমের উদ্যোগে ৪১ জন হকারকে চেলিডাঙার রাস্তা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আজও তাঁদের পুনর্বাসন মেলেনি। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, সেই পার্কের মধ্যেই একজন হকার নার্সারির ব্যবসা করছেন। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।”
রাজুর সরাসরি অভিযোগ, “ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক নিজের ইচ্ছেমতো একজনকে ওই পার্কে বসতে দিয়েছেন। এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত মানা যায় না।”
ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে আসানসোলে। বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছেন।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আসানসোল পৌরনিগমের ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক। তিনি বলেন, “কোনও হকারকে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একজনকে দেওয়া হয়েছে মাত্র।”
তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যাঁদের উচ্ছেদ করা হল, তাঁদের পূর্ণবাসন না করেই পার্কের ভিতরে কাউকে বাণিজ্যিক কাজে বসতে দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত? তা-ও আবার একই রাজনৈতিক দলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের আবহে?
