ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী সকাল থেকে সুষ্ট ভাবে চলছে ভোট গ্রহণ পর্ব। ২০২৪ সালের জুলাই বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই নির্বাচন বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গনে।
‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুসারে ১২ ফেবরুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়। মোট ৩০০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯৯টি কেন্দ্রে আজ ভোট গ্রহণ হচ্ছে বলে খবর। শেরপুর-৩ কেন্দ্রে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেই কেন্দ্রে ভোট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত।
এই নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বহু কেন্দ্রে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাতে কোনও ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভোট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে।সেই অস্থির সময়ে দেশের শাসনভার এবং পরবর্তী নির্বাচন সুষ্টভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় ইউনুস পরিচালিত অন্তরবর্তী সরকারের উপর। পাশাপাশি, খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বিএনপি-র নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি— এই দুই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তির পুরনো মুখ আর নেই। নতুন নেতৃত্ব, নতুন জোট এবং নতুন কৌশল নিয়ে এবারের লড়াই।
বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার কতৃক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি এবং বিভিন্ন বিরোধী জোটের মধ্যে। বিএনপি-র তরফে নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার বিষয়। অন্যদিকে, ইসলামপন্থী দলগুলিও জোটবদ্ধভাবে শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। ২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবসমাজের বড় ভূমিকা ছিল। ফলে এবারের নির্বাচনে তাঁদের প্রত্যাশা এবং দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের পরিচয়পত্র যাচাই, ইভিএম বা ব্যালট পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ সব ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট বিধি মেনে কাজ করার দাবি করেছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত অভিযোগ উঠলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অশান্তির খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
