
গোলাম রাব্বানী
আমরা প্রায়ই শুনি বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে “বড় পরিবর্তন” আনবেন। কিন্তু বাস্তবতা অন্যকিছুই বলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা ইউনুস সরকারের সময়ও দেখা গিয়েছিল, বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বললেই সন্ত্রাস বিরোধী আইনে বা বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হত। আজও সেই আইনগুলোই কার্যকর রয়েছে।
গত সরকারের সময়ও রাজনৈতিক বিরোধী বা মতপ্রকাশকারী মানুষদের ওপর নানা ধরনের মামলা আর দমনমূলক কার্যক্রম দেখা গিয়েছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারও যখন রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা মানবাধিকার রক্ষার জন্য আওয়াজ ওঠে, তখনই কিছু মামলা দিয়ে ভয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে—পরিবর্তনের যে কথা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে কি তা দেখানো হয়েছে ? আইন থাকছে, কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে রাখার জন্য। পরিবর্তন আসার কথা ছিল গণতান্ত্রিক পরিবেশে, কিন্তু ঘটছে একই ধরণের আইনি হুমকি। এটাই আমাদের ভাবিয়ে তোলে যে, আসল পরিবর্তন কি শুধুই কথার সীমা ছাড়িয়ে বাস্তবতায় এসেছে কি না।
তার উজ্জ্বল উদাহরণ হল- জাতীয় স্মৃতি সৌধে ফুল দিতে গিয়েছিলেন শেখ শিমন (শিমুল) নামের এক ছেলে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনা। তখন তাকে জোর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আশুলিয়া থানা পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ড সহ বিজ্ঞ আদালতে তোলে তাকে।ঠিক কয়েকদিনের মাথায় সেই শিমুলকে নতুন করে সাভার থানার অন্য আরেকটা মামলায় শোন এরেস্ট সহ রিমান্ডের আবেদন করে পাঠানো হয় বিজ্ঞ আদালতে। সে যদিও এখন বর্তমানে দুটো মামলায় জামিনে মুক্ত।
সর্বশেষ মডেল মিষ্টি সুভাষ এবং দুর্জয় নামের এক ছেলেকে এবং তিন বাচ্চা সহ এক মহিলাকে গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতি সৌধ থেকে আটক করে একই কায়দায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় মিষ্টি সুভাষ এবং দুর্জয় নামের ছেলেকে আটক দেখিয়ে রিমান্ড সহ বিজ্ঞ আদালতে পেশ করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। মিষ্টি সুভাষ সহ সেই ছেলে এখন রিমান্ডে।
তাহলে পরিবর্তন টা কোথায়…?
লেখক ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য