ডাঃ সুলতানা শামীমা চৌধুরী রিতা
বর্তমানে দেশে মিজলস বা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর DGHS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে ৬২,৫০৭টি সন্দেহজনক কেস এবং ৮,৪৯৪টি ল্যাব-কনফার্মড কেস শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৮৬ জন শিশু নিশ্চিত মিজলসে এবং ৪২৬ জন মিজলস-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৫৫০ জন শিশু মারা গিয়েছে কিন্তু বেসরকারি ভাবে সংখ্যাটা আরো কয়েকগুণ বেশি। আক্রান্ত প্রায় এক লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা জাতির জন্য বেদনাদায়ক। মোঃ ইউনুস যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকা্রের দায়িত্বে ছিলেন তখন টিকা কেনা হয়নি , এই দায়ভার তিনি কখনোই এড়াতে পারেন না।
দেশের মানুষ বলতে শুরু করেছে মোহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশে শিশু গণহত্যা কারী। বর্তমানে তথাকথিত যে সরকার দায়িত্বে আছে তারাও এর দায়ভার এড়াতে পারে না। ইতিহাস তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবে না। ইতিহাস আবার আপন গতিতে ফিরে আসবে এই বাংলার মাটিতে সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠবে। বিচার হবে। তখনই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এবং বাঙালি জাতি তাদের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করে পাবে।
আমরা ইতি মাধ্যমে দেখেছি হাইকোর্টে মোঃ ইউনূসের বিরুদ্ধে রিপ পিটিশন করা হয়েছে কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে সরকার পক্ষ থেকে, এখন দেশবাসী এটাই বলতে শুরু করেছে তাহলে দেশের কি আইনের শাসন আছে নাকি আইনের শাসন নির্বাসনে চলে গেছে। তাহলে দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার-তথাকথিত সরকার ইউনুসকে এই অপরাধ থেকে দায় মুক্তি দিতে চায় সুতরাং তারাও অপরাধী।
আজকে যারা ইউনুসকে রক্ষা করতে চাইছে তারাও সমান অপরাধী। আপনারাই বিবেচনা করুন আগে কেমন ছিলেন আর এখন কেমন আছেন। দেশ এখন কোথায় যাচ্ছে। আপনারা সতর্ক হোন, দেশ কিন্তু বিক্রি হয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য গণ আন্দোলনের প্রয়োজন। তবেই আপনার আমার আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। সারা বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে এবং লুটপাটের মহা উৎসব চলছে।
শেখ হাসিনার আমলে মানুষ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে এবং নির্দ্বিধায় পেয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছিল। মানুষ তার সুফল এখনো ভোগ করছে। শেখ হাসিনার শাসনাকালে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক ভাল ছিল, এমন কথাই এখন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। চিকিৎসকদের সঠিকভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না, তাদের বাক স্বাধীনতাকে জিম্মি করে রেখেছে। শত শত চিকিৎসককে অন্যায় ভাবে বের করে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনাকালে বাংলাদেশের হাজার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে। অনেক বড় বড় হাসপাতাল হয়েছে, স্বাস্ত্য ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এমন কথা এখন কান পাতলেই শোনা যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশবাসীর সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীদের উপরে মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে অন্যায় ভাবে জেলখানায় বন্দি করে রেখেছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আগে চিকিৎসা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুস্থ করে তুলতে হবে। এই তথাকথিত সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অসুস্থ করে দিয়েছে। সম্মানিত চিকিৎসকদের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে। তারা আজকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারছে না। কর্মস্থলে যেতে পারছে না। আজ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। চারিদিকে নৈরাজ্য অস্থিতিশীল পরিবেশ আর অরাজকতা বিরাজমান। এই পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের মানুষ এখন আওয়াজ তুলেছে বলতে শুরু করেছে এই মুহূর্তে দরকার শেখ হাসিনার সরকার।
আন্তর্জাতিক সংস্থার সতর্কবার্তা
UNICEF বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ২০ মে ২০২৬-এর প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারকে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও ঘাটতি নিয়ে ৫-৬টি লিখিত চিঠি পাঠানো হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে ১০টি বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে আসন্ন ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়। UNICEF জানিয়েছে, সরকারি তদন্তে তারা সব তথ্য-প্রমাণ জমা দেবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে জেলা-উপজেলা হাসপাতালে রোগীর চাপ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ও সময়মতো সেবা প্রাপ্তি নিয়ে অভিযোগ উঠে এসেছে। WHO গত মাসে জানিয়েছে, রুটিন টিকাদান কভারেজ হ্রাসের কারণে বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।
অতীত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বাংলাদেশের টিকা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দেশে-বিদেশে আলোচিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মিজলস মোকাবিলায় দ্রুত, সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি। ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সরকার, UNICEF, WHO ও Gavi-এর সহায়তায় ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি মিজলস-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দাবি : নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— কেন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হলো না, কেন টিকা ক্রয়ে বিলম্ব হলো, ক্রয় প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল। জনকল্যাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত দায় নিরূপণ এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি।
শিশুর জীবন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়। মিজলস প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকা আছে, চিকিৎসা আছে, অভিজ্ঞতা আছে। দরকার শুধু আন্তরিকতা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা। সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম— সকলকে একসাথে শিশুর জীবন বাঁচানোর কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
সূত্র:
. DGHS Press Briefing, 23 May 2026 – 86 confirmed + 426 suspected deaths
. UNICEF Bangladesh Press Briefing by Rana Flowers, 20 May 2026 – 5-6 letters, 10 meetings
. WHO/UNICEF/Gavi Emergency Campaign Press Release, 4 April 2026।
লেখক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক