নয়ন বিশ্বাস রকি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক নির্বাচনকে প্রার্থীরা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে অবৈধ বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। ফলশ্রুতিতে প্রায় ৭৬% আইনজীবী ভোট বর্জন করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে আইনজীবীরাই সুষ্ঠু বিচার পান না, সেখানে সাধারণ মানুষ এই বিচার বিভাগের কাছে কীভাবে ন্যায়বিচার আশা করবে ?
- . গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন
আজ দেশের মানুষ জিজ্ঞেস করছে—গণতন্ত্র কোথায়? মানবাধিকার কোথায়? এগুলো কি হারিয়ে গেছে, নাকি আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে?
তথাকথিত নেতাদের মুখে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। জনগণের অভিযোগ, এই শব্দগুলো এখন কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতার ছবক ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- . সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ৪৯৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। মাসের পর মাস জামিন না পেয়ে তারা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় দিনের পর দিন জেলে আটকে রাখার নজির বিরল। এতে প্রশ্ন জাগে—আইনের শাসন কি তবে মৃত, নাকি উধাও হয়ে গেছে?
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ শঙ্কিত। টাঙ্গাইলে দিনের আলোয় নারীকে নির্যাতনের ঘটনা, প্রকাশ্যে ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে।
জনগণের প্রশ্ন—সরকার ও প্রশাসন কি আছে? থাকলে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না কেন? তথাকথিত ‘সুশাসন’ কি এখন জাতির সঙ্গে তামাশায় পরিণত হয়েছে?
- . উন্নয়ন বনাম শাসনব্যবস্থা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব। ‘খাল খনন কর্মসূচি’ জিয়াউর রহমানের আমলেও ছিল, যা জাতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে—যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা অনস্বীকার্য।
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যদি অযোগ্য ও স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে যায়, তবে জাতির কপালে দুঃখ-দুর্দশা অনিবার্য। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে, মিথ্যা মামলা ও লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করে কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
জনগণ এখন জানতে চায়—রাজনৈতিক দলগুলো কি আসলেই গণতন্ত্রের জন্য, নাকি ক্ষমতা ও লুটপাটের ক্লাবে পরিণত হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করবে।