ডাঃ সুলতানা শামীমা চৌধুরী রিতা, সমাজ সেবিকা
অধ্যাপক মোঃ ইউনুস বিগত ১৫ মাসে অসংবিধান অস্বীকৃত ভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে শিল্প ও কলকারখানায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে শ’ শ’ মিল কলকারখানা। কর্মহীন হয়েছেন ৩০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক। অন্যদিকে, এই ১৫ মাসে বেড়েছে চুরি ডাকাতি ছিনতাই চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি হারমার দখল বাজি লুটপাট। বৈদেশিক উন্নয়নের সহযোগী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে নিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতির জন্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশের মানুষ । সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ধ্বংস করে বাংলাদেশকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে বিরোধী মত কে নির্মম ভাবে দমন করার জন্য সকল রাষ্ট্রীয় যন্ত্র অপব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন জুলুম অন্যায় অবিচার চালিয়ে যাচ্ছে এই সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছে। গণতান্ত্রিক পথে বাধা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ কর্মী সমর্থকের ভোটাধিকার, মানবাধিকার ব্যক্তি স্বাধীনতা গৃহবন্দী করে রেখেছে। এবং সারা বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলবন্দী করে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে মানবাধিকারের বালাই নেই, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, বিচার নেই; গণতন্ত্রকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে চলেছেন মোহাম্মদ ইউনুস। ঐক্য মত কমিশন নামে বাংলাদেশের মানুষকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। শিক্ষকদের বাক স্বাধীনতা নেই হাজার হাজার শিক্ষককে অপমান করা হচ্ছে অপসারণ করা হচ্ছে। হাজার হাজার মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে। স্বাস্থ্য খাতে দেখা দিয়েছে নৈরাজ্য। চিকিৎসা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের পাঁচ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা ধ্বংস করেছে। শেয়ার বাজারে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।
১৯৭১ বাংলাদেশে গণহত্যার অপরাধীদের বিচার করার জন্য মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনাল করা হয়েছিল। আর বর্তমানে ক্যাঙ্গারু আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বিচারপতি নিয়োগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ফাঁসি দিতে চায় এখকার প্রশাসক। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোন উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণ নেই। কিন্তু এই আদালতে শেখ হাসিনার বিচার বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ মেনে নেবে না। অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের যেখানে নিজেরই বৈধতা নেই, তিনি অবৈধ ভাবে দেশীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই বর্তমানে বাংলাদেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন বলছেন, আগেই ভালো ছিলাম। আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই নির্যাতন নিপীড়ন জুলুম অবিচারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যেন গ্রহণ করা হয়। বিগত ১৫ মাসে মোঃ ইউনূসের এই হল উন্নয়ন, এই হল সংস্কার,এই হল তাঁর নতুন বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনার জমানায় বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে চোখ ফেরালে বোঝা যায় কোন অন্ধকারে এখন ডুবে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পূর্বতন সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, কী ভাবে সামনে দিকে এগোচ্ছিল আমাদের দেশ। সেই কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিতে এখানে সেই খতিয়ানটা তুলে ধয়ার উচিত।
গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে বৃহৎ কিছু উন্নয়ন :
১. পদ্মা সেতু ও রেল লাইন
২. মেট্রোরেল
৩. এলিভেটেড এক্সপ্রেস
৪. থার্ড টার্মিনাল
৫. হাতিরঝিল প্রকল্প
৬. পূর্বাচল ৩০০ ফিট
৭. উড়াল সেতু নির্মাণ
৮. যমুনা রেল সেতু
৯. সমুদ্র সীমা বিজয়
১০. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
১১. রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
১২. কর্নফুলি টানেল
১৩. কক্সবাজার রেল লাইন
১৪. কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
১৫. ঢাকা ও চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে
১৬. পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র
১৭. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
১৮. মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র
১৯. টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন
২০. পায়রা সমুদ্র বন্দর
২১. টি ইকোনমিক জোন
২২. টি মডেল মসজিদ
২৩. টি মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ
২৪. কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি
২৫. উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণ
২৬. রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দান
২৭. সমস্ত দেশকে রেলওয়ে আওতায় আনার উদ্যোগ
২৮. ফ্লাইওভার নির্মাণ
২৯. মহাসড়ক গুলো চার,ছয় ও আট লাইনে উন্নতিকরণ
৩০. এশিয়ান হাইওয়ে রোড প্রকল্প
৩১. ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ
৩২. ফ্লাইওভার নির্মাণ
৩৩. নদী ভাঙ্গন রোদ প্রকল্প
৩৪. শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি
৩৫. বয়স্ক ভাতা
৩৬. মাতৃত্বকালীন ভাতা
৩৭. বিধবা ভাতা
৩৮. মুক্তিযোদ্ধা ভাতা
৩৯. শিক্ষা ভাতা
৪০. প্রতিবন্ধী ভাতা
৪১. স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা
৪২. জেলেদের খাদ্য সহায়তা
৪৩. ঈমামদের ভাতা
৪৪. বৈশাখী ভাতা
৪৫. ডি জি ডি কার্ড
৪৬. ভি জি এফ কার্ড
৪৭. ও এম এস কর্মসূচি
৪৮. ১০ টাকা মুল্যে চাল বিতরণ
৪৯. বিনামূল্যে বই
৫০. কমিউনিটি ক্লিনিক এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা
৫১. দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
৫২. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি
৫৩. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ
৫৪. আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন
৫৫. শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতাল
৫৬. প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্য সেবা
৫৭. মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বৃদ্ধি
৫৮. কর্মসংস্থান সৃষ্টি
৫৯. কৃষিতে সফলতা
৬০. নারীর ক্ষমতায়ন
৬১. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি
৬২. মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি
৬৩. ছিটমহল সমস্যার সমাধান
৬৪. দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ
৬৫. একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প
৬৬. দেশ ব্যাপি বহুতল আদালত ভবন নির্মাণ
৬৭. মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ
৬৮. গ্রাম আদালত কার্যকর
৬৯. ডিজিটাল পাসপোর্ট
৭০. কুলাউড়া – শাহবাজপুর,বড়লেখা নতুন রেললাইন
৭১. মোবাইল ব্যাংকিং চালু করণ
৭২. ১৪৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন
৭৩. ২৬১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ
৭৪. কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা ক্লাস চালু করণ
