ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মৌলভীবাজার জেলার একটি চা বাগান থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার চাম্পারা চা বাগানের ভেতর ঝোপঝাড়ের মধ্যে স্থানীয় শ্রমিকরা প্রথম দেহটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
মৃত যুবকের নাম রতন শুভ কার, বয়স ২৮। তিনি ওই চা বাগানেরই শ্রমিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বাড়িতে না ফেরায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। পরদিন সকালে বাগানের ভেতর একটি দেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে শনাক্ত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেহটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, অন্যত্র খুন করে দেহটি চা বাগানের নির্জন অংশে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথা স্বীকার করেনি। তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনও কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, রতন শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল বলে জানা যায়নি। পরিবারও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
