ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নেওয়া দলগুলির মধ্যে এখন সমঝোতার বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চলেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
নির্বাচনের আগে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুই দলই নিজেদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছিল। জনসভা ও প্রচারে একে অপরের নীতির সমালোচনাও শোনা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশেরই প্রতিফলন যেখানে জোটসঙ্গীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরতে চায়। ফলে আন্তর্জাতিক মহলেও বার্তা গিয়েছিল যে বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে এবং শক্তিশালী বিরোধী অবস্থানও বিদ্যমান।
তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। অতীতে একাধিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াত একই জোটের শরিক ছিল এবং সরকার গঠনেও একসঙ্গে পথ চলেছে। রাজনৈতিক প্রয়োজনে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর কৌশলে তারা বহুবার একে অপরকে সমর্থন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে প্রকাশ্য দূরত্বকে অনেকেই কৌশলগত অবস্থান হিসেবেই দেখছেন।
নির্বাচনে জয়ের পরপরই তারেক রহমানের এই ধারাবাহিক বৈঠক রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার গঠন, মন্ত্রিসভা বিন্যাস এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এসব বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট-পরবর্তী এই তৎপরতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হলেও ক্ষমতার সমীকরণে পুরনো সমীকরণই কার্যকর হচ্ছে।
একদিকে সরকারপক্ষ দাবি করছে, বহুদলীয় অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে যে প্রকাশ্য বিরোধিতার ছবি তুলে ধরা হয়েছিল, ফল ঘোষণার পর তা দ্রুত মিলিয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে পদ্মাপারে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রকৃত চরিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।