সুভম কর্মকার, বাঁকুড়া : মাছির উৎপাতে নাজেহাল বাঁকুড়ার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। মাছির দৌরাত্মে দিনভর মশারির ভেতরেই দিন কাটছে। জানা গেছে স্থানীয় একাধিক হ্যাচারি থেকে হাজারে হাজারে মাছি ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে । মাছির তান্ডব এতটাই যে স্থানীয় গ্রামগুলির মানুষের দৈনন্দিন গৃহস্থলীর কাজ করতে হচ্ছে মশারির ভিতরে। পাশাপাশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে আন্ত্রিক থেকে ডায়রিয়ার মত অসুখ।
মাছির এই উৎপাতে অতিষ্ঠ বাঁকুড়ার ৮ থেকে ১০ টি গ্রামের মানুষজন । জানা গেছে বাঁকুড়ার দুই নম্বর ব্লক ও ছাতনা ব্লকের সীমানা কাশিবেদিয়া এলাকায় রয়েছে একের পর এক বেসরকারি হ্যাচারি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সেই হ্যাচারি গুলি থেকেই প্রতিদিন হাজারে হাজারে মাছি ধেয়ে আসছে কাশিবেদিয়া, তেঘরি, বাঘজুড়ি, জগন্নাথপুর, দলদলি, বেলিয়া সহ আশেপাশের গ্রামে। গ্রামগুলির মানুষ মাছির তাণ্ডবে এতটাই অতিষ্ঠ যে মাছির জন্য মশারির ভেতর থেকেই তাদের জীবন কাটছে ।
সূত্রের খবর মাছির উৎপাতে বাচ্চাদের পড়াশুনা কার্যত লাটে উঠেছে। এছাড়াও রান্নার সময় মাছি খাবারে পড়ছে। সকাল থেকে শুরু রাত অবধি সবকিছুই সারতে হচ্ছে মশারির ভেতরে। মাসখানেক আগেই মাছির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে বাঁকুড়া পুরুলিয়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড় ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন এলাকাবাসী। সেই সময় প্রশাসন ও হ্যাচারি মালিকেরা মাছি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন । যদিও এক মাস কেটে যাওয়ার পরেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই ফের মঙ্গলবার গ্রামের মানুষ হ্যাচারি গুলির দরজায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
গ্রামবাসীদের দাবি মাছির মাধ্যমে এলাকায় আন্ত্রিক ও ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না করলে এবার গ্রাম ছেড়ে মানুষকে আশ্রয় দিতে হবে অন্যত্র।
অন্যদিকে হ্যাচারি কর্তৃপক্ষের দাবি মাছি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হলে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির জন্য মাছির তাণ্ডব আরো বেড়েছে। এখন দেখার কবে প্রসাশন এই মাছি তাড়াবার ব্যবস্থা করে। সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সমগ্র গ্রামবাসী ।
