নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে মহিশীলার শ্মশান কালীমন্দির। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি মন্দির মনে হলেও, এর ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে শতাধিক বছরের ইতিহাস, পারিবারিক পরম্পরা আর এক অনন্য আরাধনা পদ্ধতি। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মন্দিরের মা অত্যন্ত জাগ্রত। মন থেকে কিছু চাইলে মা ফেরান না।
কথিত আছে, একসময় এই মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেই ছিল শ্মশান। পরে জনবসতি বেড়ে যাওয়ায় শ্মশান সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মহিশীলা ৩ নম্বর এলাকায়। শ্মশান সরে গেলেও মন্দিরের নামের সঙ্গে আজও জড়িয়ে রয়েছে ‘শ্মশান কালী’ পরিচয়। পুজোর রীতিতেও আসেনি কোনও বদল।
এই পুজোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল, এখানে বাইরের কোনও ব্রাহ্মণ পুরোহিত দিয়ে পুজো হয় না। বাবা ক্ষুদিরামের বংশধররাই বংশপরম্পরায় মায়ের পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের প্রচলিত মন্ত্র ও প্রাচীন রীতি মেনে মায়ের আরাধনা করেন।
পুজোর রীতিও একেবারে আলাদা। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, শ্মশান থেকে দাহকাজের পর অবশিষ্ট কাঠ সংগ্রহ করে পুজোর কাজে ব্যবহার করা হয়। পুজোর আচারের অংশ হিসেবে আনা হয় মানুষের মাথার খুলিও। রয়েছে পাঁঠা বলির রীতিও। মন্দির চত্বরে রয়েছে দুটি প্রাচীন গাছ, একটি বট এবং একটি অশ্বত্থ। স্থানীয়রা এদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মানেন এবং পুজো করেন।
কালীপুজোর আগের দিন বিশেষ গণনা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সেই প্রাচীন রীতি মেনেই আগের দিন মাকে মাছের ভোগ নিবেদন করা হয়। শত বছরের ঐতিহ্য, নিজস্ব মন্ত্রপাঠ আর শ্মশানকালী আরাধনার বিশেষ আচারকে ঘিরে মহিশীলার এই মন্দির আজও তার স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, পুজোর রাতে মায়ের শ্মশানকালী রূপ যেন এক অন্য মহিমায় প্রকাশিত হয়।