গোপাল শীল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: বঙ্গে এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই সমস্যার কথা সামনে এসেছে। রাজ্যের শাসক দল একাধিকবার প্রতিবাদে নেমেছেন। কখনও রাস্তায় আবার কখনও নির্বাচন কমিশনের অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এবার এসআইআর আর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে বাজনা বাজানোর পন্থাকে বেছে নিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি বালিয়াড়ার ২৬৮ নম্বর বুথের ভোটাররা। শনিবার এসআইআর হেয়ারিং-এ ঐ বুথের ৬৫০ জনকে নাম থাকার প্রতিবাদে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের মৌসুনি বালিয়াড়ায় ২৬৮ নম্বর বুথ এলাকার বহু ভোটার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দল বেঁধে বাজনা বাজাতে বাজাতে হিয়ারিং কেন্দ্রে উপস্থিত হন। হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে আশপাশের মানুষজন কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩২৯ জন। অথচ এসআইআর হিয়ারিংয়ের জন্য প্রায় ৬৫০ জন ভোটারের নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে শুনানিতে তলব করায় ক্ষোভ জমতে শুরু করে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের নিয়ম অনুসারে ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় তাদের নাম ছিল এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অকারণে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে এবং হয়রানি করা হচ্ছে।
এই ক্ষোভ থেকেই প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেন গ্রামবাসীরা। নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে তাঁরা বাজনা বাজিয়ে মিছিলের আকারে হিয়ারিং সেন্টারে পৌঁছন। তাঁদের কথায়, “ নির্বাচন কমিশন আমাদের যেমন বাদ্যযন্ত্র ভেবে নিয়েছে, যখন খুশি ডাকা হচ্ছে। তাই বাদ্যযন্ত্রের মতোই বাজনা বাজিয়ে এসেছি।” এই অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানানো হয়।
গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁদের অধিকাংশের নাম বহু বছর ধরেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, এমনকি ২০০২ সালের তালিকাতেও নাম নথিভুক্ত ছিল। জন্মভূমি মৌসুনিতেই তাঁদের বসবাস, তবু বারবার নোটিশ পেয়ে মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। পরিবারের বৃদ্ধ সদস্য থেকে মহিলারাও এদিন উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই হাতে নথিপত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাগরিক পরিচয় প্রমাণের প্রস্তুতি নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবিলা খাতুন ও মোস্তাফা খান জানান, অযথা হয়রানির প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি। তাঁদের বক্তব্য, সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বারবার ডেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অপমানজনক। তাই ভয় না পেয়ে একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানানোই তাঁদের উদ্দেশ্য।
