নিজস্ব সংবাদদাতা : ২১শে জুলাই-এর আগে ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর হেনস্থার প্রতিবাদে বুধবার কলকাতার পথে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিংয়ের মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রকে। জানিয়ে দিলেন, “আমি বাংলায় বেশি করে কথা বলব, ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখো”। অভিযোগ তুললেন ভোটারদের নাম কাটা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজ্যে বসে সেখানকার সংস্থাকে দিয়ে এ রাজ্যের ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে।
বুধবার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মমতার মিছিল নিয়ে সকাল থেকেই তটস্থ ছিল শহরের ট্রাফিক পুলিশ। ছোটো বড় মাঝারি উর্দিধারীরা যে অতিমাত্রায় কর্তব্যপরায়ণ হবেন তা বলাইবাহুল্য। সেই ছবি দেখলেন কলকাতার অফিসযাত্রী থেকে হাসপাতালগামী অসুস্থ মানুষেরা। তার মধ্যেই কেন্দ্র ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি ধরপাকড়ের যে পরিস্থিতি চলছে তার বিরোধিতা করে সরাসরি মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এঁদের জন্য কলকাতা পুলিশ ব্যস্ত হওয়ায় চিরাচরিত ছবিটা এদিনও ফুটে উঠল, চরম নাজেহাল হতে হল সাধারণ মানুষকে। অতি ভক্তির ফলে যেভাবে বারবার কলকাতা জট পাকিয়ে ওঠে এদিনও তার অন্যথা নয়, এমনটাই জানালেন এক অফিসযাত্রী। একই মত অন্যদেরও। মমতার মিছিল যখন কলেজ স্ট্রিট ধরে ধর্মতলার দিকে, তখন দক্ষিণ কলকাতার নানান পথ আটকে মিছিলের পথ সুগম করতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন ট্রাফিককর্তারা।
এমনিতেই কয়েকদিন ধরে বাংলায় চলছে ভারী বৃষ্টিপাত। মঙ্গলবার গভীর রাতেও শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। এদিন বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মিছিল চলতে থাকে। হাওড়া, দমদম, সল্টলেক ও ভাঙড়-সহ শহরতলির একাধিক এলাকা থেকে দলের নেতা-কর্মীরা এই মিছিলে যোগ দেন। মিছিল শেষ হয় ডোরিনা ক্রসিংয়ে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৃণমূলের মহা মিছিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন সকালেই সমগ্র এলাকা স্নিফার ডগ দিয়ে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ। কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পুরো এলাকায় ছিল নজর কাড়া পুলিশি নিরাপত্তা।
ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সম্প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলায় কথা বললেই আজ ভিনরাজ্যে হেনস্থা হতে হচ্ছে। বাংলা ভাষা বললেই অপমান, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর হুমকি! এটা কি ভারত?” তৃণমূলের অভিযোগ, এ বিষয়ে বারবার কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দেওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উলটে যারা এই অপরাধ করছে, তাদের মদত দিচ্ছে বিজেপি-শাসিত সরকার। অসমে এক কোচবিহারের মহিলা বিয়ে করে গিয়ে এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাঁকে।
সম্প্রতি আদমশুমারি প্রসঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। তিনি বলেছিলেন, যাঁরা বাংলা বলছেন, তাঁরা নাকি ‘বাংলাদেশি’। এই নিয়ে এদেশের বাঙালিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানান। দেশজুড়ে বিতর্কও শুরু হয়। তৃণমূলের মতে, এটা সরাসরি বাংলা ভাষা ও বাঙালির অপমান। এনিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, “এমন হওয়া অন্যায় এবং তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” এই ইস্যুকে সামনে রেখে বুধবারের মহামিছিল।
